উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তা!
jugantor
উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তা!

  মো. মঞ্জুরে মওলা  

২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০০:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

ইংরেজি নিউ ইয়ার আপনার বাসার-দরজায় কড়া নাড়ানোর অপেক্ষায়! Are you thinking of making some healthy changes in your life? নতুন বছর আসা মানে কি আপনার উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তা? উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই! কারণ, উপহার শব্দ নিয়ে আজকের আলোচনা ও গল্প করার মাধ্যমে পেতে পারেন নতুন নামের উপহার, যা আপনার পরিবার তথা আপনার নিজস্ব পৃথিবীর সকল সদস্যদের জীবনকে করতে পারে আরও সুন্দর ও মধুময়!

উপহারের অনেক নাম

বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে উপহার (Gift) শব্দটির গুরুত্ব অনেক। এই শব্দটির মাঝে লুকিয়ে আছে স্নেহ, ভালোলাগা, ভালোবাসা, হাসি-আনন্দ এবং সুখ-স্মৃতির হাতছানি। বহুবিধ ব্যবহারের সঙ্গে উপহার শব্দটির আছে বিভিন্ন নাম! যেমন ধরুন, অসাধারণ কেউ কিছু করলে বলে থাকি আল্লাহর উপহার (Allaha gifted talent or natural talent), জন্মদিনের উপহার, খৎনার উপহার, বিয়ের উপহার, ঈদের উপহার, পূজার উপহার, নববর্ষের উপহার, নবান্নের উপহার, বাবা-মা-ভাই-বোন দিবসের উপহার, উঁচু-নিচু জাতের উপহার, রাজা-প্রজার উপহার, নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার উপহার, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার উপহার এবং আরও অন্যান্য দিবসের সঙ্গে ডিজিটাল যুগে যুক্ত হয়েছে ভ্যালেন্টাইন দিবসের উপহার।

আমরা ঢুকে গেছি অ্যানালগ উপহার থেকে ডিজিটাল উপহারের ট্রাকে ডিজিটাল সামাজিকতায় উপহার অনেকাংশে ক্ষয়েছে তার গুরুত্ব, সূচক, এবং সার্থকতা। কিভাবে? উপহার এখন আপনার আশেপাশের অনেকের দাম্ভিকতা প্রকাশের মাধ্যম এবং সমাজ-শ্রেণী (যাকে আমরা সো-কল্ড সোশ্যাল স্ট্যাটাস বলে থাকি) মানদণ্ড নির্ণয়ের বড় হাতিয়ার। হয়ত এ কারণেই, সমাজের বেশীরভাগ মানুষ অর্বাচীনের মত উপহার শব্দকে ব্যবহারের জন্য বেছে নিয়েছে ঠুনকো, লোভনীয় এবং চাতুর্যপূর্ণ অসমতল প্রতিযোগিতার মাঠ। এই মাঠের সদস্যপদ ধরে রাখার আশায় আপনি-আমি অন্যের পকেট কেটে উপহার নামক হৃদয়হীন রস-সংবাদ সংগ্রহ করছি অন্যের জন্য। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা, যে সমাজ উপহারকে অর্থের মাপকাঠিতে দেখে, সর্বসম্মতভাবেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, সেখানে অনাচার অনিবার্য।

অতি সংক্ষেপ, বাংলাদেশের প্রখ্যাত রম্য-রচনা লেখক ও সংগীত বিশেষজ্ঞ ড. আবদুস শাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ডিজিটাল সামাজিকতায় উপহারের অবস্থা অনেকটা ‘ইন্দ্রনীল সেনদের ঐন্দ্রজালিক কণ্ঠের সদ্ব্যবহারের বদলে হচ্ছে অপব্যবহার।

গল্পকার মনে করে, ডিজিটাল সমাজে বসবাসরত সকল মানুষের মনে এখনও আছে সুপ্ত চাওয়া-পাওয়া, বাসনা কিংবা কামনা। উপহার দেয়া বা নেয়া চোখে দেখা গেলেও এটা অন্তরে উপলব্ধি করার বিষয়। তাই আপনার মনের মানুষটির হৃদয়ের কথা বা তার অনুভূতি বুঝে উপহার কিনুন, উপহার দিন এবং উপহার গ্রহণ করুন। যা আপনার পৃথিবীর সকল সদস্যের জন্য বয়ে আনতে পারে বহুমাত্রিক ছন্দ-পতনহীন সুন্দর পথচলা।

ডিজিটাল যুগের মানুষ বলেই আপনাকে মনে রাখতে হবে ‘হৃদয়ের কাজ কেবল হৃদয়েই করতে পারে, মস্তিষ্কের কাজ করতে পারে কম্পিউটার’। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির বন্ধনকে যুগোচিত চেতনায় আরও মজবুত করতে পেরেছি কি ডিজিটাল যুগের উপহার? অতীতকে (এনালগ উপহার) সঙ্গী না করে বর্তমান (ডিজিটাল উপহার) এগোতে পারে কি? ডিজিটাল উপহার কি সামন্তবাদ এবং পুঁজিবাদ যুগের সমন্বয়ে নতুন কোনো যুগের উপমা ? প্রশ্নগুলো আপনার কাছে থাকল।

ডিজিটাল উপহারের জালে আমাদের শিশুরা নাজেহাল

আপনার-আমার পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুরা যে কোন ধরনের উপহার পেলেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় এবং আমরাও তাদের খুশিতে একাকার হয়ে থাকি। খুশি হবই বা না কেন? আপনার শিশুর খুশিতে আপনি খুশি হবেন এটাই খুব স্বাভাবিক। ডিজিটাল যুগের সচেতন পিতা-মাতা হিসেবে আপনাকে আরও একটু বেশি সচেতন হতে হবে আপনার শিশুর জন্য কি উপহার দেবেন এবং কে কি উপহার আপনার শিশুকে দিয়েছে। কিন্তু কেন? কারণ, উপহার পেয়ে শিশুরা শেখে উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত-এটা একটা লাইফ লং ভালুজ (life-long values), এবং আরও শেখে ‘What would be meaningful to someone else’।

উপহার দেয়ার প্রক্রিয়া শিশুদের সেফ (shape) দেয় তাদের পরিচয়, উন্নত করে সহমর্মিতা(empathy) এবং খুলে দেয় শিশুদের চিন্তা বিকাশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়ের জানালা। এক কথায়, শিশুদের টেকসই জীবনের জন্য উপহার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই আপনার শিশুকে ডিজিটাল যুগের উপহার (উদাহরণ, আই প্যাড, খেলনা রাইফেল এবং তরবারি, ইলেকট্রনিক গেমস আইটেম, শব্দ দূষণ খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি) থেকে যতটা পারেন দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

কেননা, ডিজিটাল উপহারের জন্য আজ আপনার-আমার শিশুরা ডিজিটাল ভাইওলেন্সের শিকার। এর বাস্তব প্রমাণ হলো, ইদানিংকালে আপনাকে দেখতে বা সহ্য করতে হচ্ছে আপনার শিশুর আক্রমণাত্মক চিন্তা (aggressive thought), আক্রমণাত্মক আচরণ (aggressive behavior), এবং angry feelings in the real world। তাই শিশুর টেকসই জীবনের জন্য মনের উপহারের সাথে মিষ্টি খাবার, রঙিন জামা-কাপড়, শিক্ষণীয় খেলনা এবং বই-পুস্তক বিবেচনা করাই সর্বোত্তম।

প্রসঙ্গক্রমে, আপনি-আমি প্রত্যেক শিশুর অভিভাবক হিসেবে উপহার দেবার মাধ্যমে নাম না জানা সেই শিশুদের সুন্দর জীবনের পথ দেখাতে বা সুন্দর জীবনের স্বাদ গ্রহণে সহযোগিতা করতে পারি, যারা বা যাঁদের বসবাস করতে হয় বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক স্থানে বা পরিবেশের কাছাকাছি। বিষয়টি আপনার বিবেচনাধীন থাকল।

উপরের আলোচনার সারাংশ হিসেবে আপনি বলতে পারেন, ইউনেস্কোর হেরিটেজ সংরক্ষণ প্রোগ্রামে চলে যেতে শুরু করেছে আমাদের অ্যানালগ উপহারের গুরুত্ব, সূচক এবং সার্থকতা। তাই, উপহারের নান্দনিক আবেদন বুঝাটা সকল ডিজিটাল যুগের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যিকারার্থে,গুরুত্বনির্ভর করে আপনি-আমি এরপর উপহারকে কীভাবে দেখব তার ওপর এবং আজকের আলোচনায় আরও দেখা যায়, উপহার আপনার-আমার প্রকাশ করে রুচি, সৌন্দর্যবোধ, আবেগ এবং উপলব্ধিও বটে। চার বর্ণের উপহার শব্দের মাঝে খুঁজে পেতে পারি ‘উদাহরণ(উ) হিসেবে পাওয়া(প) হৃদয়ের (হ) রহস্য(র)!

এই রহস্যের উদ্ঘাটন, উৎপাদন, উপযোগিতা, উপকারিতা কিংবা উপসংহার দেখতে হলে আপনার প্রয়োজন শুধুমাত্র একটি ‘মনের উপহার’ (Mindful gift)। যেটা হতে পারে আপনার সামর্থ্য, অনুভূতি, সহমর্মিতা, এবং আপনার একান্ত সময় । আপনার আপন মানুষকে সীমাহীন ব্যাকুলতায় উৎকণ্ঠিত করতে পারে আপনার মনের উপহার। মোদ্দকথা,এই উপহার আপনার প্রিয় মানুষটির হৃদয়কে করে তুলতে পারে উদ্বেলিত, উচ্ছলিত ও চিরঋণী- এটা কেবল হয় চিরকালীন।

যদিও সভ্যতার-ব্যস্ততা (এ কাইন্ডস অব ডিজিট) আপনার মনের উপহার খোঁজার সময়কে করেছে সংকোচিত। তবুও গোধূলির ক্লান্ত লগনে, জীবনের স্বর্নালী সন্ধ্যাকে আরও মধুময় করতে একটি ‘মনের উপহার’ খুঁজতে ক্ষতি কি।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তা!

 মো. মঞ্জুরে মওলা 
২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইংরেজি নিউ ইয়ার আপনার বাসার-দরজায় কড়া নাড়ানোর অপেক্ষায়! Are you thinking of making some healthy changes in your life? নতুন বছর আসা মানে কি আপনার উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তা? উপহার নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই! কারণ, উপহার শব্দ নিয়ে আজকের আলোচনা ও গল্প করার মাধ্যমে পেতে পারেন নতুন নামের উপহার, যা আপনার পরিবার তথা আপনার নিজস্ব পৃথিবীর সকল সদস্যদের জীবনকে করতে পারে আরও সুন্দর ও মধুময়!

উপহারের অনেক নাম  

বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে উপহার (Gift) শব্দটির গুরুত্ব অনেক। এই শব্দটির মাঝে লুকিয়ে আছে স্নেহ, ভালোলাগা, ভালোবাসা, হাসি-আনন্দ এবং সুখ-স্মৃতির হাতছানি। বহুবিধ ব্যবহারের সঙ্গে উপহার শব্দটির আছে বিভিন্ন নাম! যেমন ধরুন, অসাধারণ কেউ কিছু করলে বলে থাকি আল্লাহর উপহার (Allaha gifted talent or natural talent), জন্মদিনের উপহার, খৎনার উপহার, বিয়ের উপহার, ঈদের উপহার, পূজার উপহার,  নববর্ষের উপহার, নবান্নের উপহার, বাবা-মা-ভাই-বোন দিবসের উপহার, উঁচু-নিচু জাতের উপহার, রাজা-প্রজার উপহার, নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার উপহার, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার উপহার এবং আরও অন্যান্য দিবসের সঙ্গে ডিজিটাল যুগে যুক্ত হয়েছে ভ্যালেন্টাইন দিবসের উপহার।
 

আমরা ঢুকে গেছি অ্যানালগ উপহার থেকে ডিজিটাল উপহারের ট্রাকে ডিজিটাল সামাজিকতায় উপহার অনেকাংশে ক্ষয়েছে তার গুরুত্ব, সূচক, এবং সার্থকতা। কিভাবে? উপহার এখন আপনার আশেপাশের অনেকের দাম্ভিকতা প্রকাশের মাধ্যম এবং সমাজ-শ্রেণী (যাকে আমরা সো-কল্ড সোশ্যাল স্ট্যাটাস বলে থাকি) মানদণ্ড নির্ণয়ের বড় হাতিয়ার। হয়ত এ কারণেই, সমাজের বেশীরভাগ মানুষ অর্বাচীনের মত উপহার শব্দকে ব্যবহারের জন্য বেছে নিয়েছে ঠুনকো, লোভনীয় এবং চাতুর্যপূর্ণ অসমতল প্রতিযোগিতার মাঠ। এই মাঠের সদস্যপদ ধরে রাখার আশায় আপনি-আমি অন্যের পকেট কেটে উপহার নামক হৃদয়হীন রস-সংবাদ সংগ্রহ করছি অন্যের জন্য। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা, যে সমাজ উপহারকে অর্থের মাপকাঠিতে দেখে, সর্বসম্মতভাবেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, সেখানে অনাচার অনিবার্য।

 

অতি সংক্ষেপ, বাংলাদেশের প্রখ্যাত রম্য-রচনা লেখক ও সংগীত বিশেষজ্ঞ ড. আবদুস শাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ডিজিটাল সামাজিকতায় উপহারের অবস্থা অনেকটা ‘ইন্দ্রনীল সেনদের ঐন্দ্রজালিক কণ্ঠের সদ্ব্যবহারের বদলে হচ্ছে অপব্যবহার।

 

গল্পকার মনে করে, ডিজিটাল সমাজে বসবাসরত সকল মানুষের মনে এখনও আছে সুপ্ত চাওয়া-পাওয়া, বাসনা কিংবা কামনা। উপহার দেয়া বা নেয়া চোখে দেখা গেলেও এটা অন্তরে উপলব্ধি করার বিষয়। তাই আপনার মনের মানুষটির হৃদয়ের কথা বা তার অনুভূতি বুঝে উপহার কিনুন, উপহার দিন এবং উপহার গ্রহণ করুন। যা আপনার পৃথিবীর সকল সদস্যের জন্য বয়ে আনতে পারে বহুমাত্রিক ছন্দ-পতনহীন সুন্দর পথচলা।   

 

ডিজিটাল যুগের মানুষ বলেই আপনাকে মনে রাখতে হবে ‘হৃদয়ের কাজ কেবল হৃদয়েই করতে পারে, মস্তিষ্কের কাজ করতে পারে কম্পিউটার’।  এখন প্রশ্ন জাগতে পারে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির বন্ধনকে যুগোচিত চেতনায় আরও মজবুত করতে পেরেছি কি ডিজিটাল যুগের উপহার? অতীতকে (এনালগ উপহার) সঙ্গী না করে বর্তমান (ডিজিটাল উপহার) এগোতে পারে কি? ডিজিটাল উপহার কি সামন্তবাদ এবং পুঁজিবাদ যুগের সমন্বয়ে নতুন কোনো যুগের উপমা ? প্রশ্নগুলো আপনার কাছে থাকল।

 

ডিজিটাল উপহারের জালে আমাদের শিশুরা নাজেহাল

আপনার-আমার পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুরা যে কোন ধরনের উপহার পেলেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় এবং আমরাও তাদের খুশিতে একাকার হয়ে থাকি। খুশি হবই বা না কেন? আপনার শিশুর খুশিতে আপনি খুশি হবেন এটাই খুব স্বাভাবিক। ডিজিটাল যুগের সচেতন পিতা-মাতা হিসেবে আপনাকে আরও একটু বেশি সচেতন হতে হবে আপনার শিশুর জন্য কি উপহার দেবেন এবং কে কি উপহার আপনার শিশুকে দিয়েছে। কিন্তু কেন? কারণ, উপহার পেয়ে শিশুরা শেখে উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত-এটা একটা লাইফ লং ভালুজ (life-long values), এবং আরও শেখে  ‘What would be meaningful to someone else’।

উপহার দেয়ার প্রক্রিয়া শিশুদের সেফ (shape) দেয় তাদের পরিচয়, উন্নত করে সহমর্মিতা(empathy) এবং খুলে দেয় শিশুদের চিন্তা বিকাশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়ের জানালা। এক কথায়, শিশুদের টেকসই জীবনের জন্য উপহার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই আপনার শিশুকে ডিজিটাল যুগের উপহার (উদাহরণ, আই প্যাড, খেলনা রাইফেল এবং তরবারি, ইলেকট্রনিক গেমস আইটেম, শব্দ দূষণ খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি) থেকে যতটা পারেন দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

কেননা, ডিজিটাল উপহারের জন্য আজ আপনার-আমার শিশুরা ডিজিটাল ভাইওলেন্সের শিকার। এর বাস্তব প্রমাণ হলো, ইদানিংকালে আপনাকে দেখতে বা সহ্য করতে হচ্ছে আপনার শিশুর আক্রমণাত্মক চিন্তা (aggressive thought), আক্রমণাত্মক আচরণ (aggressive behavior), এবং angry feelings in the real world। তাই শিশুর টেকসই জীবনের জন্য মনের উপহারের সাথে মিষ্টি খাবার, রঙিন জামা-কাপড়, শিক্ষণীয় খেলনা এবং বই-পুস্তক বিবেচনা করাই সর্বোত্তম।

প্রসঙ্গক্রমে, আপনি-আমি প্রত্যেক শিশুর অভিভাবক হিসেবে উপহার দেবার মাধ্যমে নাম না জানা সেই শিশুদের সুন্দর জীবনের পথ দেখাতে বা সুন্দর জীবনের স্বাদ গ্রহণে সহযোগিতা করতে পারি, যারা বা যাঁদের বসবাস করতে হয় বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক স্থানে বা পরিবেশের কাছাকাছি। বিষয়টি আপনার বিবেচনাধীন থাকল।

 

উপরের আলোচনার সারাংশ হিসেবে আপনি বলতে পারেন, ইউনেস্কোর হেরিটেজ সংরক্ষণ প্রোগ্রামে চলে যেতে শুরু করেছে আমাদের অ্যানালগ উপহারের গুরুত্ব, সূচক এবং সার্থকতা। তাই, উপহারের নান্দনিক  আবেদন বুঝাটা সকল ডিজিটাল যুগের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যিকারার্থে,গুরুত্বনির্ভর করে আপনি-আমি এরপর উপহারকে কীভাবে দেখব তার ওপর এবং আজকের আলোচনায় আরও দেখা যায়, উপহার আপনার-আমার প্রকাশ করে রুচি, সৌন্দর্যবোধ, আবেগ এবং উপলব্ধিও বটে। চার বর্ণের  উপহার শব্দের মাঝে খুঁজে পেতে পারি ‘উদাহরণ(উ) হিসেবে পাওয়া(প) হৃদয়ের (হ) রহস্য(র)!

এই রহস্যের উদ্ঘাটন, উৎপাদন, উপযোগিতা, উপকারিতা কিংবা উপসংহার দেখতে হলে আপনার প্রয়োজন শুধুমাত্র একটি ‘মনের উপহার’ (Mindful gift)। যেটা হতে পারে আপনার সামর্থ্য, অনুভূতি, সহমর্মিতা, এবং  আপনার একান্ত সময় । আপনার আপন মানুষকে সীমাহীন ব্যাকুলতায় উৎকণ্ঠিত করতে পারে আপনার মনের উপহার। মোদ্দকথা,এই উপহার আপনার প্রিয় মানুষটির হৃদয়কে করে তুলতে পারে উদ্বেলিত, উচ্ছলিত ও চিরঋণী- এটা কেবল হয় চিরকালীন।

যদিও সভ্যতার-ব্যস্ততা (এ কাইন্ডস অব ডিজিট) আপনার মনের উপহার খোঁজার সময়কে করেছে সংকোচিত। তবুও গোধূলির ক্লান্ত লগনে, জীবনের স্বর্নালী সন্ধ্যাকে আরও মধুময় করতে একটি ‘মনের উপহার’  খুঁজতে ক্ষতি কি।

 

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]