ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুবাইয়ে নিহত আহমেদের লাশ নিয়ে বাড়িতে মন্ত্রী
Advertisement
সিলেট ব্যুরো ও বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ শেষে সেটি নিজ হাতে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশটি গ্রহণ করা হয়। এর আগে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লাশটি ঢাকায় পৌঁছায়। পরে বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে সেটি সিলেটে আনা হয়।
বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও সেখানে অবস্থানরত শ্রমিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে সরকার রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেকোনো সংকটে পড়লে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিবারের সদস্যদের মতো তাদের পাশে থাকবে। মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহত আহমেদ আলীর মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোমবার বিকাল ৩টায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভাধীন গাজিটেকা বাঁশতলা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিহত সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর লাশ নিয়ে পৌঁছলে স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজনদের সাথে প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। লোকে-লোকারণ্য হয়ে ওঠে নিহত এই প্রবাসীর বাড়ি।
পরে মন্ত্রী দাফন-কাফনের জন্য নিহতের স্ত্রী মিনু বেগম, ছেলে জাকির হোসেন ও বোরহান উদ্দিন এবং মেয়ে সাজেদা হকের হাতে তাৎক্ষণিক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের ১ লাখ টাকা ও বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের ২০ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন। এ সময় তিনি তাদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিকাল ৫টায় তিনি মরহুমের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ মাঠে নিহত প্রবাসী সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
লাশ হস্তান্তর শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি দুবাইয়ে নিহত বড়লেখার সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী লাশ নিয়ে তার বাড়িতে এসেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই পরিবারটির খোঁজ-খবর নিয়েছেন, লাশ দেশের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আজকে (সোমবার) সকালেও তিনি ফোন করে জেনেছেন আমি লাশ নিয়ে যাচ্ছি কিনা।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, নিহত সালেখ উদ্দিনের পরিবারের জীবিকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষম সদস্যকে কর্মসংস্থান দেওয়া হবে। শুনেছেন এক ছেলে অসুস্থ এবং স্ত্রীও প্রতিবন্ধী। ছেলের চিকিৎসার ও স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শুধু সালেখ উদ্দিন নয়, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নিহত প্রত্যেক প্রবাসীর ক্ষেত্রে সরকার একই ব্যবস্থা নিবে। প্রবাসীদের ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। ইতোমধ্যে যাদের ভিসার মেয়াদ এক্সপায়ার হয়েছে তাদের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে প্রবাসীদের সরকারিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা রয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
মরদেহ গ্রহণের সময় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজা উন নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত আহমেদ আলী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে পানি সরবরাহের একটি গাড়ি চালাতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেখানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তার দুই ছোট ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদ একই শহরে থাকেন এবং তারাই পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান।
