ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসায় হুইপ নিজানের সুদৃষ্টি চান অসহায় স্ত্রী
Advertisement
শাহরিয়ার কামাল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মরণব্যাধি ক্যানসারের ৪র্থ স্টেজে এসে জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি লড়াই করছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার অসহায় জেলে রুহুল আমিন (৩৮।
অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা চিকিৎসার খরচ জোগাতে ও স্বামীর জীবন বাঁচাতে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ আশরাফ উদ্দিন নিজানের ব্যক্তিগত মানবিক সহযোগিতা ও সুদৃষ্টির জন্য আকুল আকুতি জানিয়েছেন তার স্ত্রী মাইনুর বেগম।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল জানান, হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান দীর্ঘদিন ধরেই তার নির্বাচনী এলাকায় মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত। এর আগে তিনি নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া বেশ কয়েকটি অসহায় পরিবারকে নিজস্ব অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত এক দরিদ্র রোগীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মানবিক ও জনবান্ধব এই নেতার পূর্বের এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ওপর ভরসা করেই ক্যানসার আক্রান্ত রুহুল আমিনের পরিবার ও স্থানীয়রা এখন তার দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পাটারীরহাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন ঠিক চার বছর আগে মেঘনার গ্রাসে নিজের শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু হারিয়েছিলেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এক প্রতিবেশীর দয়ায় তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর নদীতে জাল ফেলে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে টেনেটুনে চালাচ্ছিলেন পাঁচ সদস্যের সংসার; কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে এবার তার জীবনটাই কেড়ে নিতে বসেছে মরণব্যাধি ক্যানসার।
হাসপাতালের বিছানায় যখন রুহুল আমিন যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, তখন তার জীর্ণ ঘরে চলছে আরেক নীরব হাহাকার। ঘরে ১৫ বছরের এক কিশোরী মেয়েসহ তিনটি অবুঝ সন্তান আর স্ত্রী মাইনুর বেগম। ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ইতোমধ্যে পরিবারের সামান্য যা কিছু সম্বল ছিল সব বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ধারদেনা আর চিকিৎসার পেছনে সর্বস্ব খুইয়ে আজ এই পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
মাইনুর বেগম বলেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটা আজ বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ডাক্তাররা বলছেন ক্যানসারের শেষ ধাপ, অনেক টাকার প্রয়োজন; কিন্তু আমাদের ঘরে আজ বাচ্চাদের মুখে দেওয়ার মতো একমুঠো চালও নেই। স্বামীর জীবন বাঁচাতে আর এই এতিম হতে বসা সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি হুইপ মহোদয়সহ দেশের ও প্রবাসের সহৃদয়বান মানুষের কাছে দুটি হাত পেতে একটু আর্থিক সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছি। আপনারা একটু দয়া করলে আমার সন্তানদের মাথার ওপর বাবার ছায়াটা বেঁচে থাকবে।
এদিকে,রুহুল আমিনের এই চরম দুর্দিনে চোখে আঙুল দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ভোটকে কেন্দ্র করে ওই ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জন সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী মাঠে নেমেছেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘জনগণের খেদমত করার সুযোগ দিন’, ‘সুখে-দুখে সব সময় জনগণের পাশে আছি’। অথচ খোদ এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা রুহুল আমিনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির সাথে লড়াই করলেও আজ পর্যন্ত কোনো একজন ‘হবু জনপ্রতিনিধি’ তাঁর খোঁজ নিতে আসেননি। ভোটের মাঠে সুখে-দুখে পাশে থাকার বড় বড় বুলি আওড়ানো ওই সমস্ত প্রার্থীরা এই নিঃস্ব পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ানোর ন্যূনতম মানবিকতাটুকুও দেখাননি, যা স্থানীয় সচেতন মহলকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।
রুহুল আমিনের প্রতিবেশী ডা. বেলাল গভীর আক্ষেপ নিয়ে বলেন, রুহুল আমিন অত্যন্ত ভালো ও সৎ মানুষ। চার বছর আগে মেঘনা নদী তার ঘরবাড়ি সব গিলে খেলে আমি মানুষটাকে ভালোবেসে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিই। গত ছয় মাস ধরে তিনি হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানতে পারি তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তার লিভার সিরোসিস হয়ে গেছে। প্রথম দিকে আমরা প্রতিবেশীরা, স্থানীয় বাজার কমিটি আর প্রবাসীদের সহযোগিতায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করে চিকিৎসা করিয়েছি; কিন্তু এখন আর আমাদের পক্ষেও এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সাত বছরের এক ছেলে আর পাঁচ বছরের আরেক সন্তানসহ পুরো পরিবারটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমরা সমাজের বিত্তশালীদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোর্শেদ আলম জানান, ক্যানসার আক্রান্ত জেলে রুহুল আমিনের বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ক্যানসার, লিভার সিরোসিসসহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা সরকারিভাবে তার পরিবারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল প্রসেস করব। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তার পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় কোনো স্থায়ী সহযোগিতা দেওয়া যায় কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
