ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের দুই এসিল্যান্ডকে বদলি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
অংমাচিং মারমা (বায়ে) এবং দেবযানী কর (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড দেবযানী করকে খুলনায় এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেবযানী করকে খুলনায় এবং অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে অংমাচিং মারমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ৩১ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
একই এলাকায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে সেখানে পৌঁছান। তবে অফিস সময় শুরু হওয়ার পরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় তিনি হাজিরা রেজিস্টার পরীক্ষা করেন।
পরিদর্শনের সময় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতি এবং কর্মস্থলে না এসেও হাজিরা খাতায় আগে থেকেই স্বাক্ষর করে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার দিন সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ড দেবযানী কর অফিসে না থাকলেও তিনি অসুস্থতার কারণে অনুমোদিত ছুটিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের দিন সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার দেবযানী কর অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে ছিলেন। তাকে যে বদলি করা হয়েছে, এটি স্বাভাবিক বদলি বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, ৩৮ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। এ কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারকেও অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সদরেই দায়িত্বে রয়েছেন।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, তার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তিনি কারণ দর্শানোর জবাব ইতোমধ্যে দিয়েছেন। সেটি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
নোটিশে বলা হয়েছিল, সোমবার সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপস্থিত পাননি। তারা উপস্থিত না থাকলেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিন স্বাক্ষর করে গেছেন। যা গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর ‘খ’ ধারার অপরাধের শামিল।
যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের ১৮ জনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তারা হলেন- সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।
এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।
তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত দিয়েছেন জানিয়ে আরডিসি জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী একই অফিসে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। যারা এই সময়ের বেশি একই অফিসে রয়েছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এ এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন তিনি। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।
অন্তত ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা।
আকস্মিক এ পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গরহাজির এবং হাজির না থেকেও খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার বিষয়টি ধরা পড়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। জেলা প্রশাসককে এ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।


