দিনদুপুরে ডাকাতি, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
দিনদুপুরে ডাকাতি, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জন ডাকাত ঢুকে নারী ও একজনকে জিম্মি করে। তাদের কাছে থাকা স্বর্ণ ও অন্যান্য জিনিষ ডাকাতি করে। কিন্তু দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে সব স্পষ্ট দেখা যায়। পড়ে এর ভিডিও ভাইরাল হয়।
ওই ভিডিও দেখে পাঁচজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও রুপা উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ কথিত সন্ত্রাসী মো. মতিউর রহমান জনি ওরফে ‘ব্ল্যাক জনি’ (৩৯) ও তার সহযোগী মো. রিফাত হাসানকে (২৬) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
রোববার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার দুপুরে বন্দরের ঢাকেশ্বরী বাজারে দেবাশীষের স্বর্ণের দোকানে মুখোশ পরা ৫ জনের একটি দল ঢোকে। তারা দোকানের মালিক ও দুই ক্রেতাকে ধারাল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, চার ভরি স্বর্ণ ও রুপা লুট করে নিয়ে যায়।
দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ডাকাতরা বিষয়টি বুঝতে পারেনি বলে জানায় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে ডাকাতদের চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়। পরে ওই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বন্দর থানা পুলিশের নজরে আসে। এরপর বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), মো. মিজান (২৬), মো. অনিক (২২), সুমন বেপারী (৩৮) ও রাজু আহমেদ (২৪)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন এবং দুজন দোকানের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
তাদের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রুপা, স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া দুটি রুলি (চুড়ি) এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় তৈরি ১৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি, ১২ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে।
এদিকে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ঘাড়মোড়া কাজিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ মো. মতিউর রহমান জনি ওরফে ‘ব্ল্যাক জনি’ ও তার সহযোগী মো. রিফাত হাসানকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাশের একটি হাঁসের খামার থেকে পাঁচটি লোহার তৈরি রামদা, এসএসের বাটযুক্ত দুটি লোহার তৈরি রামদা, লোহার বাটযুক্ত দুটি রামদা, দুটি লোহার তৈরি ছোরা, দুটি লোহার তৈরি দা ও তিনটি জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ছিনতাই ও মাদকদ্রব্যের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
এ ঘটনায় জনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
