পুড়িয়ে দিয়েছে মোটরসাইকেল
যোগদান করতে গিয়ে হামলার শিকার অধ্যক্ষ
Advertisement
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
অধ্যক্ষের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আগুন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েল। এ সময় হামলাকারীরা পিটিয়ে অধ্যক্ষের এক হাত এবং এক পা ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া হামলাকারীরা অধ্যক্ষের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন- এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী চব্বিশের ৫ আগস্টপরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তসাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে গত প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এরপর মাসুদ রানা জুয়েল উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ পান। আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশে রোববার মাসুদ রানা জুয়েল মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন।
তিনি জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা জুয়েল অফিস রুমে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কিছু লোকজন এসে অফিস রুম থেকে মাসুদ রানাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করেন এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন এটা বলতে পারেননি তিনি।
অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলের ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, ভাই মাসুদ রানা জুয়েল কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন আমার ভাই এবং আমাকেও বেধড়ক মারধর করে মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মারধরে ভাই মাসুদ রানা জুয়েলের এক হাত এবং এক পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে মাসুদ রানা জুয়েল নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
