Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশ

৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি সেই ইব্রাহিমের

Advertisement

Icon

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি সেই ইব্রাহিমের

ইব্রাহিম আলী শেখ। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে ২২ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া ইব্রাহিম আলী শেখের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তাকে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে হাইকোর্টে খালাস পাওয়ার পরও প্রায় আট বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর দাবিও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যানেক্স ভবনের ২৯ নম্বর কোর্টে বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর আদালতে রিট পিটিশনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 

বিষয়টি দৈনিক যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

এর আগে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই দুই আইনজীবী। পরে তার দীর্ঘ কারাবাস এবং খালাস পাওয়ার পরও কারাগারে থাকার বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে জনস্বার্থে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেওয়া আইনি নোটিশের সঙ্গে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পেপার কাটিংও রেফারেন্স হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে আইনজীবীরা রাষ্ট্রের ১২টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেন। এর মধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বাগেরহাট ও নওগাঁর জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা পুলিশ সুপার এবং নওগাঁ জেলা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট রয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে ইব্রাহিমকে হত্যা ও বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ তাকে খালাস দেন। কিন্তু খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে প্রায় আট বছর সময় লাগে। ফলে আদালতে খালাস পাওয়ার পরও ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হয়। নোটিশে এই অতিরিক্ত আটককে বেআইনি উল্লেখ করে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আট বছর বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহির ব্যবস্থা এবং আদালত, পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আদালতের আদেশ দ্রুত পৌঁছে দিতে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল অর্ডার ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা চালুর দাবি করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সংবিধানের ১০২(২)(এ) অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসার পর বাগেরহাট জেলা প্রবেশন অফিসার শহিদুর রহমান ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাকে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইব্রাহিমের চাহিদা অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি পাকা ঘর ও একটি মুদির দোকানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ জুলাই দৈনিক যুগান্তরে ‘বিনা দোষে ২২ বছর কারাগারে ইব্রাহিম’, ‘জেল থেকে মুক্তি পাইছি, জীবনডা ফেরত পাই নাই’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দীর্ঘ কারাজীবন শেষে মুক্তি পাওয়া ইব্রাহিমের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়। পরে ১৭ জুলাই ইব্রাহিমের ক্ষতিপূরণ ও পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হয়।

মুক্তির পর ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের ভবনা-খাড়িবুনিয়া গ্রামের মরাপশুর নদীর চরে খাসজমিতে অন্যের আশ্রয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বসবাস করছেন ইব্রাহিম। সংসার চালাতে মানুষের বাড়িতে কাজ করলেও দীর্ঘ কারাভোগের পর শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত কাজ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুক্তির পর সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরলেও এতদিন কার্যকর সহায়তা পাননি তিনি।

সহায়তার উদ্যোগ ও আইনি পদক্ষেপে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইব্রাহিম আলী শেখ বলেন, ‘জেল থেকে বের হওয়ার পর এক বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। কিন্তু দৈনিক যুগান্তর আমার কষ্টের কথা প্রকাশ করায় অনেক মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে। সমাজসেবা অফিস ও আইনজীবীরা সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। এখন আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মায়ের কাছে বেড়িয়ে ফেরার পথে নিখোঁজ স্কুলছাত্র

মায়ের কাছে বেড়িয়ে ফেরার পথে নিখোঁজ স্কুলছাত্র

জিপিএফের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, বরখাস্ত ৬

জিপিএফের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, বরখাস্ত ৬

রামপাল মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চারদিন ধরে বন্ধ

এখনো আসেননি দুই ভারতীয় প্রকৌশলী রামপাল মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চারদিন ধরে বন্ধ

ফ্যাসিস্ট আ.লীগের নেতাকর্মীদের বিচারে ব্যর্থ হলে ভীরুতার পরিচয় দেব

আইনমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট আ.লীগের নেতাকর্মীদের বিচারে ব্যর্থ হলে ভীরুতার পরিচয় দেব

বলেশ্বর নদে বিশাল আকৃতির কুমির, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক

বলেশ্বর নদে বিশাল আকৃতির কুমির, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক

শাপলা তুলতে গিয়ে দুই বোনের মৃত্যু

শাপলা তুলতে গিয়ে দুই বোনের মৃত্যু

আরও পড়ুন

কাঁচপুর ব্রিজের দু'পাশ যেন মরণফাঁদ ভুল সিদ্ধান্ত ও নজরদারির অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

ভুল সিদ্ধান্ত ও নজরদারির অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

কিশোর গ্যাং বিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ১০০

কিশোর গ্যাং বিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ১০০

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে পাঠকখরায়

ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে পাঠকখরায়

স্কুলছাত্রীর লাশ ঘিরে মিলছে নানা তথ্য যশোরে মন্দির দখলে নিতে ইসকনের অপতৎপরতা

যশোরে মন্দির দখলে নিতে ইসকনের অপতৎপরতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম