শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামিকে সহায়তা দেবে না আইনজীবী সমিতি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার চাচা জাহিদুল ইসলামের (২০) পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ইতোপূর্বেও এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার আসামির পাশে আইনজীবীরা দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার আসামির পক্ষে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের কোনো আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সব আইনজীবী কাজ করবেন।
এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন স্থানে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৫ম আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জাহিদুল স্বীকার করেন, তিনি মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশচাপা দিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে জাহিদুল মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহবশত জাহিদুলের ঘরে প্রবেশ করে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে মাহিদাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
