সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার না পেয়ে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছিল, তখন সংকট উত্তরণে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগও একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী, দালাল ও দুর্নীতিবাজদের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হতে চলেছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিলারশিপ প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও রংপুরে তদবির ও ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে। নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক।
সরকারি নীতিমালায় জামানত মাত্র ১০ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও মাঠপর্যায়ে আবেদনকারীদের দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ঘুস দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ত্রুটিপূর্ণ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের আবেদনপত্র বৈধ করতে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মচারীও এ চক্রে জড়িয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বাদ পড়বেন এবং ডিলারশিপ চলে যাবে সুবিধাভোগী ও অনভিজ্ঞ মহলের হাতে। ফলে সার ব্যবস্থাপনায় দেখা দেবে চরম নৈরাজ্য এবং কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বস্তুত অনভিজ্ঞরা ডিলারশিপ পেলে সুষ্ঠু সার বিতরণব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
সার দেশের কৃষি খাতের প্রাণস্পন্দন। এর সঠিক বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে সার সংকট আরও ঘনীভূত হবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর। ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপালেও মাঠপর্যায়ের এই নৈরাজ্য কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই অনতিবিলম্বে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া অধিকতর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা অত্যন্ত জরুরি। যাচাই-বাছাই কমিটিকে আরও কঠোর হতে হবে এবং ঘুস ও তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অসদুপায় অবলম্বনকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের হাতে ডিলারশিপ অর্পণ করা গেলেই কেবল সরকারের সার সংকট সমাধানের এ উদ্যোগ সফল হতে পারে এবং তাতে কৃষকের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
