রাজধানীর নদী-খাল রক্ষা
সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নদীমাতৃক এ দেশের রাজধানীর চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার মতো নদ-নদী প্রাকৃতিকভাবেই জলবায়ু ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগের এক অপূর্ব সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিল। কিন্তু যুগের পর যুগ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখলদারত্ব, কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার অপচয়ের ফলে আজ এই জলাশয়গুলো মৃতপ্রায়। যুগান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঢাকার চারপাশের নদী ও খালকেন্দ্রিক প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং আরও ২০টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এত বিপুল অর্থ খরচের পরও এসব নদী ও খালের পানি দূষণমুক্ত হয়নি এবং নাব্য সংকটেরও কোনো স্থায়ী সমাধান ঘটেনি।
জানা যায়, সামগ্রিক কোনো মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় এলজিআরডি, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং বিআইডব্লিউটিএ-যার যার মতো বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থ ব্যয় করে চলেছে। ফলে এক সংস্থা নদী বা খালের পাড়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাঁটার পথ তৈরি করছে, তো অন্য সংস্থার অদূরদর্শিতায় সেই একই খালে ড্রেন ও শিল্পবর্জ্য পড়ে সব আয়োজন পণ্ড করে দিচ্ছে। বর্তমানে সরকার যে ২১টি চলমান ও ২০টি অপেক্ষমাণ প্রকল্প পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং মেগা প্রকল্পের অর্থ অপচয় বন্ধে নীতিনির্ধারকদের সর্বাগ্রে নদীর দূষণের উৎসগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে প্রতিটি শিল্পকারখানায় পানি শোধন ব্যবস্থা বা ইটিপি কার্যকর রাখা বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। পাশাপাশি, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা নদীর সীমানা দখল করছে এবং জলাভূমি ভরাট করে আবাসন গড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নদী ও খাল বাঁচানো কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়, ঢাকা শহরের কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব ও পরিবেশগত সুরক্ষার সঙ্গে এটি সরাসরি যুক্ত। জবাবদিহিতা ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে তবেই হাজার হাজার কোটি টাকার এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনকল্যাণে রূপ নেবে।
