জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদত্ত ভাষণ বৈশ্বিক কূটনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দর্পণ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রথমবার বাংলায় বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণপরবর্তী নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বনেতাদের সামনে বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই মঞ্চে দাঁড়িয়েই তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছিলেন। একই মঞ্চে তিনিও দেশের স্বার্থের কথা তুলে ধরলেন। এই ঐতিহাসিক ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনই কূটনৈতিক বিশ্লেষকরাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং স্মার্ট উপস্থাপন হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষ করে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, যুবসমাজ ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যয় যেভাবে বিশ্বমঞ্চে ব্যক্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থান, গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
বলা বাহুল্য, ভাষণে সার্বিক বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর যে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, তা বর্তমান বিশৃঙ্খলাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এ দেশে দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানকে ভবিষ্যতের জন্য আরও ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসাবে চিহ্নিত করে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সময়মতো সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে, সুতরাং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত।
তবে জাতিসংঘে তার উত্থাপিত সময়োপযোগী বক্তব্য ও পাঁচ দফা রূপরেখা কেবল বিশ্বমঞ্চে ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে প্রত্যাশিত ফল আসবে না। বিশ্লেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী, চীন ও ভারতের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তি এবং বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালী অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর দ্বিপাক্ষিক ফলোআপ বা ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা রক্ষা করা সম্ভব না হলে এ সংকটের বাস্তবমুখী সুফল অর্জন কঠিন হবে। কাজেই বহুপক্ষীয় মঞ্চে জোরালো বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি সক্রিয় ও কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করাও এখন সময়ের দাবি।
সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের থ্রি আর-রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন কৌশল এবং সামাজিক সুরক্ষায় নানামুখী প্রগতিশীল কর্মসূচির কথা বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করি আমরা। দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, স্টার্টআপ উদ্যোগে অর্থায়ন, নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি এবং শহর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য কমানোর সার্বিক পরিকল্পনাও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এসব প্রগতিশীল নীতির কেবল নীতিগত ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; আগামী দিনে দেশীয় অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে এগুলোর দৃশ্যমান বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈষম্য রোধ, সহজ প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারে বৈশ্বিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার যে বিশ্বজনীন আহ্বান জানানো হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিউইয়র্কে ঘোষিত এই কূটনৈতিক বার্তা ও প্রতিশ্রুতিগুলোকে সময়োপযোগী পরিকল্পনা, প্রজ্ঞাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসনের সমন্বয়ে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।
