ইস্তাম্বুলে তৃতীয় দফা আলোচনা
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রমাণনির্ভর’ দাবি উপস্থাপন পাকিস্তানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৯ পিএম
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দরাবি ৭ নভেম্বর ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি— জিও নিউজের স্ক্রিনগ্র্যাব
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইস্তাম্বুলে আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে চলমান তৃতীয় দফা আলোচনায় পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধে ‘প্রমাণনির্ভর, ন্যায্য ও যৌক্তিক’ দাবি উত্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দরাবি বলেন, ‘গতকাল আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ইস্তাম্বুলে মধ্যস্থতাকারী দেশ তুরস্ক ও কাতারের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রমাণনির্ভর ও যৌক্তিক দাবির একটি তালিকা মধ্যস্থতাকারীদের হাতে দিয়েছে, যার একমাত্র লক্ষ্য সীমান্তপারের সন্ত্রাসের অবসান ঘটানো।’
মুখপাত্র জানান, পাকিস্তানের সরবরাহ করা প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতে মধ্যস্থতাকারীরা পাকিস্তানের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
‘মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে পাকিস্তানের দাবিগুলো আফগান তালেবান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা করছেন,’ তিনি যোগ করেন।
তাহির আন্দরাবি বলেন, ‘আফগান হ্যান্ডলার বা আফগান সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো হয় পুরোপুরি অনুমাননির্ভর নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য।’
ইস্তাম্বুলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দফা আলোচনার লক্ষ্য ছিল গত মাসের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করা।
এর আগে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনের আলোচনার শেষ মুহূর্তে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়। দ্বিতীয় দফা আলোচনা ২৫ অক্টোবর শুরু হয়েছিল, তবে পাকিস্তান আফগান তালেবানদের ‘অযৌক্তিক’ যুক্তি ও সীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্বেগ উপেক্ষা করায় আলোচনাটি ভেঙে পড়ে।
পরে মধ্যস্থতাকারীরা পাকিস্তানকে আলোচনায় ফের অংশ নিতে রাজি করান, যার ফলে অস্ত্রবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।
তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সব পক্ষই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও লঙ্ঘন প্রতিরোধে নজরদারি ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব পক্ষই এমন একটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা গঠনে সম্মত হয়েছে যা শান্তি রক্ষা নিশ্চিত করবে এবং কোনো পক্ষ লঙ্ঘন করলে তার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সীমান্তে সাম্প্রতিক গোলাগুলির দায় নাকচ করল ইসলামাবাদ
এদিকে, চামান সীমান্তে সাম্প্রতিক গোলাগুলির জন্য আফগান সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদের তথ্যমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রথমে গুলি চালানো হয় আফগান বাহিনীর দিক থেকে, যার জবাবে পাকিস্তানি নিরাপরাধ বাহিনী ‘সংযমী ও দায়িত্বশীলভাবে’ প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের বাহিনীর শৃঙ্খলাপূর্ণ ও পেশাদার আচরণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। সীমান্তে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে।’
তথ্যমন্ত্রণালয় আরও জানায়, পাকিস্তান সবসময় সংলাপের মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পক্ষে এবং কাবুলের কাছ থেকেও একই ধরনের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা আশা করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে আফগান সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি আফগান কর্তৃপক্ষ এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা উত্তেজনা বাড়ায়।’




