Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

এবার কি ভারতে!

‘পোস্ট ডিলিট করো, নয়তো সমস্যা হবে’

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

‘পোস্ট ডিলিট করো, নয়তো সমস্যা হবে’

অর্চিতা সচিন রাহা ও পোস্ট মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার করা পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজনীতিতেও সম্প্রতি এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দেওয়ায় চাপ প্রয়োগ এবং  তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। 

ঠিক যেমনটা বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘পোস্ট ডিলিট করো, নয়তো সমস্যা হবে’ উক্তিটি বেশ ভাইরাল হয়েছিল। মূলত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ আন্দোলনকারীদের এই ধরনের হুমকি দিয়ে সমালোচনাকে দমানোর চেষ্টা করতো। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও মজার ছলে এই উক্তিটি বেশ ব্যবহার করতেন।

এবার ওড়িশার ভুবনেশ্বরের বিজেপি সংসদ সদস্য অপরাজিতা সারঙ্গীর কন্যা অর্চিতা সচিন রাহার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টকে ঘিরেই মূলত নতুন করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংকটের মুখে মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টিকে সামনে রেখে তিনি ওই পোস্টটি করেছিলেন। 

এমপির মেয়ের এমন পোস্ট এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তা ডিলিট করতে সাফ না করার ঘটনাটি দুই দেশেরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অর্চিতা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জাতীয় পতাকার পটভূমিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি ছবি দিয়ে পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে পোস্ট করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পোস্টের পর মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংসদ সদস্য অপরাজিতা সারঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পোস্টটি দ্রুত মুছে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়, কারণ এটি দলের ভেতরে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। 

কিন্তু তরুণী সেই অনুরোধ তোয়াক্কা না করে উল্টো আরেকটি পোস্টে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি কোনোভাবেই পোস্টটি ডিলিট করবেন না এবং বারবার অনুরোধে তার কোনো যায় আসে না। তরুণীর এই অনড় অবস্থান এবং প্রকাশ্য মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে দলের ভেতর থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ওড়িশা বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা ও স্থানীয় প্রার্থীরা মনে করছেন, সুশৃঙ্খল একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে থেকে জ্যেষ্ঠ নেতার দুঃসময়ে এমন মন্তব্য করা এবং দলের নির্দেশ অমান্য করে পোস্ট সরাতে না চাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

অনেক নেতার মতে, সাংসদদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, বিতর্ক এড়াতে এবং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমিত করতে সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গী পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক সাহসের প্রশংসা করেন এবং এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

দলীয় এমপির নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও মেয়ের পোস্ট ডিলিট না করার এই জেদ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস। 


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম