ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য হতে পারে বড় ধাক্কা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরি করার স্বপ্ন দেখা লাখো ভারতীয় শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা। দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে ১ লাখ মার্কিন ডলার (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৯৫ লাখ রুপি বা ১ কোটি টাকার বেশি) ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করে এইচ-১বি ভিসায় যাওয়ার যে পথটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা, সেটি অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে ওপিটি কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করার পর আলাদা কর্মভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত আরও দুই বছর কাজের সুযোগ পান। অর্থাৎ স্টেম স্নাতকেরা মোট তিন বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপিটি কর্মসূচিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসা পাওয়ার অন্যতম প্রধান সেতুবন্ধন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সেই সুযোগ পেতেই শিক্ষার্থীদের ১ লাখ ডলার ফি দিতে হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, ওপিটি কর্মসূচির অপব্যবহার করে অনেকে ভিসা জালিয়াতি ও নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই ভারতের। সর্বশেষ ওপেন ডোরস প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেছেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন ভারতীয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত প্রায় ৪০ শতাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী ওপিটি কর্মসূচির সুবিধা নেন। অনেকেই শিক্ষা ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যান এবং স্নাতক শেষে কয়েক বছর চাকরি করে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেন। নতুন ফি চালু হলে সেই অর্থনৈতিক হিসাব পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা পরামর্শকদের মতে, এই নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়বেন।
অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিরই ধারাবাহিকতা। এর আগে নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আপত্তির পর বোস্টনের একটি ফেডারেল আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্টের মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে ভিসা সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ বিলম্ব এবং কঠোর যাচাই-বাছাইকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওপেন ডোরস জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ৯৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর নতুন ভর্তি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ফি, ওপিটি কর্মসূচিতে সম্ভাব্য ১ লাখ ডলারের চার্জ এবং অভিবাসন নীতিতে বাড়তি কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে দক্ষ বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।
সূত্র: এনডিটিভি
