জিন্নাহর জটিল রোগ গোপন করায় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাচ্ছেন দুই ভারতীয় চিকিৎসক
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পূর্বে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রাণঘাতী যক্ষ্মা রোগের সংবাদ গোপন রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) ভিত্তিক দুই ভারতীয় পার্সি চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পুরস্কার সংক্রান্ত কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল এই ঘোষণা প্রদান করেছেন।
জিন্নাহর অসুস্থতার খবর যেন কেবল তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে ‘নীরব কিন্তু অসাধারণ অবদান’ রাখার জন্য চিকিৎসক ড. জল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ড. জল ধায়ভো-কু-কে মরণোত্তর ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছে ইসলামাবাদ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আহসান ইকবাল জানান, ১৯৪৬ সালে ড. প্যাটেল ও ড. ধায়ভো-কু জিন্নাহর বুকের এক্স-রে পরীক্ষা করে বুঝতে পেরেছিলেন যে তার যক্ষ্মা রোগটি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং তার আয়ু আর মাত্র এক থেকে দুই বছর বাকি রয়েছে। চিকিৎসাসেবার পেশাগত গোপনীয়তার নীতি মেনে তারা এই দূরারোগ্য ব্যাধির খবর সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, সে সময় এই তথ্য জানাজানি হলে ভারত বিভাগ ও পাকিস্তান গঠনের সময়রেখা বদলে যেতে পারত।
আহসান ইকবাল বলেন, ‘পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মরণব্যাধির তথ্য বিশ্বস্ততার সঙ্গে গোপন রাখা বোম্বের পার্সি সম্প্রদায়ের দুই প্রখ্যাত চিকিৎসককে নিশান-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসা পেশার শপথের প্রতি তাদের এই অটল আনুগত্য অনিচ্ছাকৃতভাবেই এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করেছিল, যা পাকিস্তানের সৃষ্টিকে সম্ভব করে তোলে।’
জিন্নাহর মৃত্যুর ৭৮ বছর পর এই দুই ভারতীয় চিকিৎসককে এই বিরল সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মার্চ মাসে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মরণোত্তর এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।
পাকিস্তানি মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরবর্তীকালে স্বীকার করেছিলেন যে জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার কথা যদি তিনি জানতেন, তবে তিনি দেশভাগ পিছিয়ে দিতে পারতেন; যা হয়তো ইতিহাসের গতিপথই বদলে দিত। ড. প্যাটেল এবং ড. ধায়ভো-কু এই তথ্য প্রকাশ না করে ইতিহাসের এক নির্ণায়ক মুহূর্তে অসামান্য সেবা দিয়ে গেছেন।
ইতিহাসবিদ ও গবেষক আকবর এস আহমেদ তার ‘জিন্নাহ, পাকিস্তান অ্যান্ড ইসলামিক আইডেন্টিটি: দ্য সার্চ ফর সালাদিন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, জিন্নাহ ১৯৩০-এর দশক থেকেই যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন। তবে এই তথ্যটি তার বোন ফাতেমা জিন্নাহসহ গুটিকয়েক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জানা ছিল না।
অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগের সেই যুগে যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী ব্যাধি। জিন্নাহ আশঙ্কা করেছিলেন যে তার এই অসুস্থতার খবর জানাজানি হলে তা তার রাজনৈতিক প্রভাব ও নেতৃত্বকে দুর্বল করে দিতে পারে, তাই তিনি তা জনসমক্ষে আনেননি।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। দেশভাগের মাত্র এক বছরের মাথায়, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

