প্রয়াত ধর্মগুরুর এআই অবতারের সঙ্গে কথা বললেন মোদি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
প্রয়াত ধর্মগুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দের এআই অবতারের সঙ্গে কথা বলছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রয়াত আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতারের সঙ্গে কথোপকথন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় নিজের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুর আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি। প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুর অবতারকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে চিন্ময় মিশনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন’ উদ্বোধন করেন মোদি। অনুষ্ঠানে স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতারের সঙ্গে তার কথোপকথন হয়।
এ সময় মোদি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আজ আমি যে কাজগুলো করতে চাই, সেগুলোর জন্য আপনার আশীর্বাদ চাই।’
জবাবে হলোগ্রাফিক অবতারে স্বামী চিন্ময়ানন্দ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির উত্থানে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘ভারত আপনার সঙ্গে আছে, নরেন্দ্র।’
অনুষ্ঠানে মোদি এই অভিজ্ঞতাকে অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেন। সাধু-সন্তদের আশীর্বাদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চিন্ময় মিশন কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ‘চিন্ময় ভাবনা’রও প্রতিনিধিত্ব করে।
অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে মোদি বলেন, ‘চিন্ময়’ শব্দটি অমরত্বের প্রতীক। সে কারণে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
প্রযুক্তির ব্যবহারে এই অভিজ্ঞতা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হলোগ্রামের মাধ্যমে চিন্ময়জির ঐশ্বরিক উপস্থিতি দেখে মনে হলো, যেন ৩৩ বছর আগের সময়ে ফিরে গেছি।’
স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে ১৯৯৩ সালের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করে মোদি বলেন, গুরুর স্নেহ ও আশীর্বাদ যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। মুহূর্তটি তার জন্য ছিল গভীর আবেগের।
তিনি বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, আমি যেন সেই সময়ে ফিরে গেছি। আমার জন্য এটি অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত।’ এ আয়োজনের জন্য চিন্ময় মিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করে মোদি জানান, ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের দিকে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সে সময় শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
মোদি বলেন, ‘তিনি আমার অনুরোধ গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্ব ধর্ম সংসদ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তি অন্য কিছু ঠিক করে রেখেছিল। অনুষ্ঠানটির মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ৩ আগস্ট তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে আমাদের মধ্যে যে গভীর আলোচনা হয়েছিল, তা এখনো মনে আছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করা এবং এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও সক্ষম ভারত গড়ে তোলা।’
তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক বছর পর জনগণ আমাকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছিল। এরপর গত ২৫ বছর ধরে সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের সেবা করে যাচ্ছি। এই পুরো যাত্রায় গুরুদেবের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে রয়েছে।’ সূত্র: এনডিটিভি


