Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের দাবি

ইসরাইলে আরেক ‘৭ অক্টোবর’ ঘটাতে ইরানের ছক

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ইসরাইলে আরেক ‘৭ অক্টোবর’ ঘটাতে ইরানের ছক

ইরানের বাসিজি সেনা ও রেভল্যুশনারি গার্ডরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কুচকাওয়াজ করছেন। ফাইল ছবি

মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে ইসরাইলে একযোগে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। পরিকল্পনাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো হলেও এবার একাধিক ফ্রন্ট থেকে একই সময়ে হামলা চালানোর লক্ষ্য রয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে গঠিত তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একই অভিযানে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, গাজাভিত্তিক হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ার ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রয়েছে। 

ইসরাইলি গোয়েন্দাদের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালালেও সেদিন হিজবুল্লাহ বা ইরান একই সময়ে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করেনি।


গাজা থেকে উদ্ধার করা হামাসের নথিতে দেখা যায়, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, হামাসের প্রাথমিক হামলা সফল হলে ইরান ও হিজবুল্লাহও সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা বা হামলার নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে ইরান ও হিজবুল্লাহ আগে থেকে অবগত ছিল না। ফলে সেদিন তাদের প্রতিক্রিয়া সীমিত ও বিচ্ছিন্ন ছিল।

এবার একসঙ্গে হামলার পরিকল্পনা?

ইসরাইলি গোয়েন্দাদের দাবি, এই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে উঠতে ইরান এখন একটি সমন্বিত একাধিক-ফ্রন্ট হামলার পরিকল্পনা করছে।

এই পরিকল্পনায় হিজবুল্লাহ, হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন ইরানপন্থিস সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একই দিনে বা একই সময় থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি অঞ্চলের হামলার পর অন্য পক্ষগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার পরিবর্তে শুরু থেকেই একযোগে চাপ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও জানিয়েছে, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ছে।

এর মাধ্যমে ইসরাইলের ওপর দক্ষিণ ও উত্তর—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেছে তারা। 

 বাড়ছে ইরানের কুদস ফোর্সের তৎপরতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক ও অনলাইন কনফারেন্সে হামলা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পাশাপাশি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামরিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যৌথ প্রশিক্ষণের ঘটনাও শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


ইরান একই সঙ্গে আগের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলেও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে এসব পরিকল্পনা নিয়ে ইরান বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম