নির্বাচন কমিশনারদের বিজেপি সদর দপ্তরে বসার পরামর্শ অভিজিতের
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগের মধ্যেই এবার সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
তিনি বলেন, বিজেপিকে জেতানোর জন্য যদি এতটাই পরিশ্রম করতে হয়, তাহলে জ্ঞানেশ কুমারের আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনারদের বিজেপির সদর দপ্তরে বসেই কাজ করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অভিজিৎ এই মন্তব্য করেন। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা। শিক্ষা, ছাত্র আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ ওঠে।
এর ঠিক আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল নিয়ে নির্বাচন এবং অর্থের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিজিৎ। সম্প্রতি ওই নির্বাচনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ কেন্দ্রীয় চারটি পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে। এরপরই অভিজিৎ দাবি করেন, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব রয়েছে।
তার অভিযোগ, প্রচারে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের মতো ঘটনা সাধারণ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই প্রসঙ্গ থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্র আন্দোলন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে একই সূত্রে এনে নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তোলেন তিনি।
তার বক্তব্য, সাধারণ পড়ুয়ারা আন্দোলন করলে মামলা হয়, অথচ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা দেখা যায় না। দলিত ও আদিবাসী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘবিরোধী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাব বাড়ছে।
এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক স্থগিত করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তোলেন সাংবাদিকেরা।
জবাবে অভিজিৎ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিজেপিতে যোগ দেওয়া উচিত। শুধু তা নয়, তার ব্যঙ্গ, বিরোধী দলগুলোর নাম ও প্রতীকও যদি একে একে স্থগিত করে দেওয়া হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত একটি দলই নির্বাচনে থাকবে এবং সেই দলই জিতবে। এরপর আরও তীব্র ভাষায় অভিজিৎ বলেন, নির্বাচনি প্রতীক কেড়ে নেওয়া, প্রার্থীকে জেলে পাঠানো এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো অভিযোগ যখন উঠছে, তখন নির্বাচন করার এই প্রক্রিয়াটিই বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনারদের বিজেপির সদর দপ্তরে বসিয়ে দিলে অন্তত নির্দেশ নিতে যাতায়াতের খরচ ও ফোনের বিল বাঁচবে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ করে তার বক্তব্য ছিল, বিজেপিকে জেতানোর জন্য তিনি প্রত্যেক রাজ্যে নাকি পরিশ্রম করছেন। দল ভাঙা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
এরপরই বলেন, এত পরিশ্রমের পরে তার পুরস্কার পাওয়া উচিত। মন্ত্রী পদ বা রাজ্যসভার আসন পাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথাও বলেন অভিজিৎ।
অভিজিতের এই আক্রমণের পেছনে তার সাম্প্রতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ১৬ মে ককরোচ জনতা পার্টির সূচনা করেন তিনি।
শুরুতে এটি ছিল মূলত ব্যঙ্গাত্মক সামাজিকমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেকার ও হতাশ যুবকদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক থেকেই সংগঠনটির জন্ম। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এর সামাজিকমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে যায়।
এরপর জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। ২৭ জুন পর্যন্ত যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলছিল এবং অভিজিৎ জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
জুলাইয়ে আন্দোলন আরও বড় আকার নেয়। সংসদ অভিমুখে মিছিল ঘিরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে এনসিপির নেতা শরদ পাওয়ার যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। পরদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করে আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর নাগপুরে অভিজিৎ নতুন করে আদিবাসী স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা করেন। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্কুলের শিক্ষক, পরিকাঠামো এবং ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের অভিযোগ তুলে তিনি ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’ নামে প্রচার শুরু করার কথা জানান।
অর্থাৎ মে মাসে সামাজিকমাধ্যমের ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ দিয়ে যাত্রা শুরু করা অভিজিৎ দীপকের আন্দোলন কয়েক মাসের মধ্যে শিক্ষা, ছাত্র আন্দোলন, পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গায় পৌঁছেছে।
২০ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ। তবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিজিতের পক্ষপাতের অভিযোগ তার নিজের বক্তব্য।
নির্বাচন কমিশনকে একটি সাংবিধানিক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার কথা রয়েছে। অভিজিতের এই অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যের সময় কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।


