জামায়াতকে ‘লংমার্চ’ স্থগিতের অনুরোধ শাহবাজের, দিলেন যে প্রস্তাব
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর বসানো অতিরিক্ত লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ আপাতত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। দেশে ফেরার পর এই বিষয়ে কার্যকর ও অর্থবহ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর ট্রেন মার্চ মূলতান পৌঁছানোর পর দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জেআইয়ের এক মুখপাত্র এই ফোনালাপের কথা নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তিনি সফর শেষ করে পাকিস্তানে না ফেরা পর্যন্ত এই মার্চ স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরেই পেট্রোলিয়াম লেভির বিষয়ে জামায়াত নেতৃত্বের সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে বসার আশ্বাস দেন তিনি।
ফোনালাপে জামায়াত আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোভের কথা সরকারের কাছে পৌঁছে দিতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের এই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে সরকারের সম্মান জানাতে হবে।
লংমার্চ স্থগিতের বিষয়ে সরকারের প্রস্তাবটি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ (মজলিসে শূরা)-এর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান জেআই আমির। তবে মার্চ স্থগিত হলেও তাদের আন্দোলন থেকে কোনোভাবেই সরে আসা হবে না বলে তিনি জোর দেন।
সোমবার গভীর রাতে হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ মূলতানে পৌঁছায়। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছালেও বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক স্টেশনে দাঁড়িয়ে মিছিলকে স্বাগত জানান।
সেখানে উপস্থিত জনসভার উদ্দেশ্যে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, যারা এই আন্দোলন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, মূলতানের এই বিশাল জনস্রোত দেখে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো দুর্গম এলাকাগুলোতেও মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। দক্ষিণ পাঞ্জাব পেরিয়ে এই মার্চ এখন সেন্ট্রাল পাঞ্জাবে প্রবেশ করছে।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে জামায়াত প্রধান বলেন, রাস্তায় কনটেইনার বা ব্যারিকেড দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর যে ‘জোরজুলুমের ট্যাক্স’ চাপানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে জনগণকে অবিলম্বে স্বস্তি দিন। মানুষ যদি সুফল পায়, তবে আমাদের অহংবোধের জায়গা থেকে লড়াই করার কিছু নেই।
জামায়াত প্রধান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির দুর্ভোগের কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। গমের আটা থেকে শুরু করে চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে মানুষ দিশেহারা।
সরকারের দ্বিমুখী নীতি ও বিভিন্ন ‘মাফিয়া চক্র’-এর প্রভাবের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, চিনি ও আটার মাফিয়ারা রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেই ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে। এর আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সঙ্গে করা ‘শোষণমূলক’ চুক্তির বিরুদ্ধেও একমাত্র জামায়াতে ইসলামীই রাজপথে অনড় অবস্থান নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিলের দাবিতে গত রোববার করাচি থেকে জামায়াতে ইসলামী এই দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করে। দেশজুড়ে ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন শহর ঘুরে মূলতানে পৌঁছানোর পর এখন লাহোর হয়ে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
