Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

আটকে গেল শুভেন্দুর ‘গুন্ডা দমন বিল’

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

আটকে গেল শুভেন্দুর ‘গুন্ডা দমন বিল’

শুভেন্দুর গুন্ডা দমন বিল আটকে গেছে। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত বহুচর্চিত গুন্ডা দমন বিল আটকে গেছে।

দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রের আপত্তির মূল জায়গা মাদক সংক্রান্ত বিধান। পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬-এ মাদক সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদেরও গুন্ডার সংজ্ঞার মধ্যে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, মাদক পাচার ও বেআইনি মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের জন্য ১৯৮৮ সাল থেকেই আলাদা কেন্দ্রীয় আইন রয়েছে। রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হলে দুটি আইনের মধ্যে দ্বৈততা তৈরি হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নোটে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য ও মাদকজাতীয় অপরাধের ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রস্তাবিত বিধান ১৯৮৫ সালের মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ আইনের সঙ্গে এবং ১৯৮৮ সালের বেআইনি মাদক পাচার প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে ওভারলেপিং বা সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করতে পারে।

এর ফলে সংবিধানের ২৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইনের মধ্যে বিরোধের প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই বিলের ২ নম্বর ধারার একটি উপধারা থেকে মাদক সংক্রান্ত উল্লেখ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গত জুনে বিধানসভায় বিলটি পেশ করে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। সরকারের বক্তব্য ছিল, অসামাজিক কার্যকলাপ, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনা ঠেকাতেই এই নতুন আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিলে গুন্ডার সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক আটকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা, শহর বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কারের ক্ষমতার প্রস্তাব রয়েছে। জেলা শাসক, পুলিশ কমিশনার বা নির্দিষ্ট পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

বিলটি নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধীদের আপত্তি ছিল। বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক আটক এবং প্রশাসনের হাতে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 

৬ আগস্ট আদালত ওই মামলাগুলি খারিজ করে জানায়, রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত বিলটির বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত প্রশ্ন তোলার সময় আসেনি। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর ফের আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকবে বলে আদালত জানিয়েছিল।

এদিকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বিলটি ফেরত আসায় এখন রাজ্য সরকারের সামনে নতুন করে বিধানসভায় যাওয়ার পথ খুলেছে।

রাজ্য প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করা যেতে পারে। বিধানসভায় সংশোধিত বিল পাস হওয়ার পর সেটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

অর্থাৎ আপাতত গুন্ডা দমন বিল কার্যকর করার প্রক্রিয়া থমকে গেলেও রাজ্য সরকারের সামনে আইনি পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাতের জায়গাটি বাদ দিয়ে সংশোধিত বিল আনার প্রস্তুতিই এখন মূল বিষয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম