নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করেন কিনা জানতে চাইলে শেখ মোহাম্মদ বলেন, অবশ্যই। গাজায় যা করা হয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধ। আর এর জন্য যারা দায়ী, তারা যুদ্ধাপরাধী।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে হামলা হয়েছে, স্কুলগুলোতে হামলা হয়েছে। এর পক্ষে যত যুক্তি বা ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, কোনো কিছুই এসব কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নিজের এবং তার সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে কাতারকে আক্রমণ করছেন।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইলের হামলারও তীব্র নিন্দা জানান শেখ মোহাম্মদ। ওই হামলায় হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তখন কাতার গাজা যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, আমরা যখন মধ্যস্থতা করছিলাম, তখনই ইসরাইল আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের ওপর এ ধরনের হামলাকে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু সীমা অতিক্রম করেছেন, যেমন এর আগেও তিনি অন্যান্য সীমা অতিক্রম করেছেন।
তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানান তিনি। তার মতে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগই অগ্রগতির সবচেয়ে কার্যকর পথ।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, সমাধানে পৌঁছাতে কীভাবে এগোনো যায়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এবং ইরানকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছে কাতার।
আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন তিনি। এগুলো হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হলে সংলাপ, পারস্পরিক হস্তক্ষেপ না করা এবং আগ্রাসন থেকে বিরত থাকার নীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
এদিকে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দোহা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। তিনি বলেন, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এ নিয়ে কাতার উদ্বিগ্ন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

