সিলিকন ভ্যালিতে ছড়াচ্ছে ভয়ংকর ‘যৌন শিকারি’র তালিকা, রয়েছে এআই সংশ্লিষ্টদের নাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
চাকরি ঝুঁকিতে অনেক নারী অভিযোগ করতে ভয় পান। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ‘শতাধিক’ ব্যক্তির নামের একটি স্প্রেডশিট গোপনে ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, তালিকায় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিলিকন ভ্যালিতে নারীদের মধ্যে প্রচলিত একটি অনানুষ্ঠানিক ‘হুইসপার নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে তালিকাটি ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে মাদক খাইয়ে অচেতন করা, যৌন নিপীড়ন থেকে শুরু করে ধর্ষণের অভিযোগ পর্যন্ত রয়েছে বলে কয়েকজন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
২০-এর কোঠায় থাকা এক প্রযুক্তি কর্মী জানান, প্রথমবার তালিকাটি দেখে তিনি বিস্মিত হন। তিনি বলেন, তালিকায় ‘খুবই পরিচিত’ নাম ছিল—যাদের মধ্যে খ্যাতিমান বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীও ছিলেন এবং যাদের তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখেছেন।
তার দাবি, পুলিশের কাছে অভিযোগ করা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করলে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক নারী এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে চান না। তিনি বলেন, অভিযোগ করে ব্যর্থ হলে সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারীদের কাছে তিনি ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ হয়ে যেতে পারেন—এমন ভয় ছিল তার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগের কিছু ঘটনা ‘হ্যাকার হাউস’ নামে পরিচিত যৌথ বসবাসের জায়গায় ঘটেছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। এসব জায়গায় তরুণ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তিকর্মীরা একই সঙ্গে বসবাস, সামাজিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন।
এমনই একটি ঘটনায় অ্যাপ নির্মাতা ইয়েহং ঝু ২০২১ সালে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নিপীড়নের অভিযোগে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেন। তার দাবি, ঘটনার পর ওই ব্যক্তিকে পুলিশ খুঁজে পায়নি। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি প্রতিবেদনে করা হয়নি।
অন্যদিকে, বেভারলি হিলসের ‘লঞ্চ হাউস’-এর এক সাবেক বাসিন্দা জানান, একটি অনুষ্ঠানে তাকে মাদক খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করার পর অন্য নারীদের সঙ্গে মিলে তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ওই কমিউনিটি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুলিশে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়।
লঞ্চ হাউসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট গোল্ডস্টেইন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির আচরণবিধি ও ঘটনা মোকাবিলার নীতিমালা বাইরের এইচআর ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
সিলিকন ভ্যালির ঘনিষ্ঠ সামাজিক ও পেশাগত নেটওয়ার্কে যৌন নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। ২০২২ সালে এআই গবেষক কীর্তনা গোপালকৃষ্ণন ‘ইফেক্টিভ অলট্রুইজম’ কমিউনিটিতে যৌন চাপ এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মোকাবিলায় কমিউনিটি-মধ্যস্থতার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।


