যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাত মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এপির।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই জবাবে কী বলা হয়েছে অথবা সেটি কোনো প্রত্যাখ্যানমূলক বার্তা কি না, সে বিষয়ে ইরানের ওই কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে উপস্থাপন করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেব। চুক্তিটি এখন অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি কর্মকর্তারা। আরাগচি নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত মঙ্গলবার ভোরে তারা নিউইয়র্ক ছাড়েন।
আরাগচি তার নিউইয়র্ক সফর ও সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তাবলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে জানান মোহাজেরানি।
গত সপ্তাহে আরাগচি বলেন, তিনি প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
তবে ট্রাম্প দ্রুতই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে কারণ তারা ‘খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে’, কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব ‘গ্রহণযোগ্য হবে না’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চুক্তি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
এরইমধ্যে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থিত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সাত মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

