সৌদিতে হুথি হামলা নিয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের জরুরি বৈঠক
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবে হুথিদের হামলার বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে রিয়াদে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট (এমজেডিএ)-এর অধীন কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। খবর দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির পূর্ণাঙ্গ বৈঠক শিগগিরই রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে। মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বাস্তবতা পর্যালোচনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হওয়ার পর জনসাধারণকে জানানো হবে।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এমজেডিএ স্বাক্ষর করে। তিন দেশের এই নিরাপত্তা কাঠামোকে সমর্থকরা একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
জাতিসংঘ অধিবেশনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইসহাক দার বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান ব্যাপক কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ সময় দেশটির প্রতিনিধিদল বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ইউএনজিএ ভাষণ প্রসঙ্গে দার বলেন, তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গেও পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
দার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৪৭ বছর পর আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে ১৮ জুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে পরিস্থিতির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পণ্যমূল্যের ওপর কীভাবে পড়ছে, তাও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির মধ্যেও জনগণকে সহায়তা দিতে সরকার কিছু ত্রাণমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের ভূমিকা
ইসহাক দার জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ সময়ে দেশটি পরিষদের সভাপতিত্বও করেছে।
তার মতে, বহুপাক্ষিকতা ও বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ বছর পর পাকিস্তানের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়েছে।
ইউএনজিএর ফাঁকে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএনজিএ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন।
এছাড়া কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান, ইরান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান এবং লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
দার আরও জানান, ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। পাশাপাশি আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তান তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানান ইসহাক দার।
তিনি বলেন, পাকিস্তান মনে করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থা। ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রয়েছে ইসলামাবাদ।

