রুদ্ধশ্বাস ১২ মিনিট
ভয়ংকর দুর্ঘটনা থেকে যেভাবে রক্ষা পেল ফ্লাইদুবাই বিমান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে এক অবিশ্বাস্য ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইটটি উড্ডয়নের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে নিচে নামতে শুরু করে।উড়োজাহাজটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭,০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই আকস্মিক ও চরম পতনের ফলে এর ভেতর চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
কেবিন লাইট, এসি এবং মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, আর ঠিক সেই মুহূর্তে ককপিটের ভেতরে ঘটে চলেছিল এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম।
উড়োজাহাজটি যখন আকাশ থেকে দ্রুত মাটিতে আছড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন ককপিটের ভেতরে কো-পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড়। কো-পাইলট তাকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করলে একপর্যায়ে ক্যাপ্টেন ককপিটের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
তবে চরম বিপদের মুখেও হার মানেননি ওই অভিজ্ঞ পাইলট। রক্তে ভেসে যাওয়া শরীর নিয়ে তিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে শেষবারের মতো সমস্ত শক্তি দিয়ে ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খুলে দেন, যা পরবর্তীতে ১৭৪ জন মানুষের জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
ক্যাপ্টেন দরজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা এবং ক্রুরা দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান। এ সময় এক ইসরাইলি প্লাম্বার ও অন্য যাত্রীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হামলাকারী কো-পাইলটকে জাপটে ধরে সিট থেকে টেনেহিঁচড়ে কেবিনে নিয়ে আসেন।
কো-পাইলট তখন ফ্লাইট ডেক ও কন্ট্রোল প্যানেল ধ্বংস করার চেষ্টা করছিলেন। যাত্রীরা কর্ডেড হেডফোন এবং অন্যান্য উপায়ে তাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। এরই মধ্যে এক ডেন্টিস্ট গুরুতর আহত ক্যাপ্টেনের কাছে ছুটে গিয়ে তার রক্তপাত বন্ধ করেন এবং তার রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, যা ক্যাপ্টেনের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল।
এদিকে, হামলাকারীকে কেবিনে বন্দি করার পর ওই ইসরাইলি প্লাম্বার দ্রুত ককপিটে ফিরে যান এবং কন্ট্রোল প্যানেল ধরে বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। বিমানটি যখন মারাত্মক গতিতে নিচের দিকে নামছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে অফ-ডিউটিতে থাকা আরেকটি পাইলটও ককপিটে এসে পৌঁছান।
পরবর্তীতে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিমানটি প্রায় ১৫,০০০ ফুট উঁচুতে থাকা অবস্থায় পুরোপুরি সমান্তরালে বা লেভেলে চলে আসে।
এই পুরো ১২ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর বিমানটি জরুরি অবস্থা বা ইমার্জেন্সি কোড ট্রান্সমিট করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ১৭৪ জন যাত্রীর সবাই অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান।
পরবর্তীতে ইসরাইল ও ভারতের শীর্ষ নেতারা এই ঘটনার জন্য ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় এবং যাত্রীদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর ক্যাপ্টেনকে প্রথমে তাবুক এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা।


