যে অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গ্রেফতার
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিং গ্রেফতার।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান ৮০ বছর বয়সি অগাস্ট হ্যানিংকে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য চুরি ও গুপ্তচরবৃত্তির গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গ্রেফতারের কথা জানানো হয়।
জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রধান রাজনৈতিক সম্পাদক এই ঘটনাকে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা কেলেঙ্কারি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সকালে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তার সাবেক প্রধান সহকারী, যিনি ‘ম্যানফ্রেড ডি’ নামে পরিচিত, তাকেও বাভারিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের মতে, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হ্যানিং পদ ছাড়ার পরও দীর্ঘ দিন ধরে রাষ্ট্রীয় গোপন নথির অবৈধ সুবিধা নিয়ে আসছিলেন।
তার সাবেক সহকারী ম্যানফ্রেড ডি পরবর্তীতে নতুন গোয়েন্দা প্রধানদের অধীনে কাজ করার সুযোগে সংস্থাটির অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন। ২০১০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি প্রায় ২,০০০ সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর সরকারি নথি গোপনে হ্যানিংয়ের হাতে তুলে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব নথির বিনিময়ে হ্যানিং তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতেন এবং সেই গোপন তথ্যগুলো নিজের ব্যক্তিগত কনসালটেন্সি ব্যবসায় ব্যবহার করতেন।
এমনকি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এবং তাদের কাছে রাজনৈতিক তথ্য পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল গোপনীয়তা ফাঁসের ঘটনাটি সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার সুবাদে। জার্মান ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণ সংক্রান্ত এক আলোচিত মামলার তদন্তে নেমে ২০২৫ সালে হ্যানিংয়ের বাড়িতে প্রথম তল্লাশি চালায় পুলিশ। তখনই সেখানে থোকা থোকা গোপন নথি ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মেলে, যা থেকে পরবর্তীতে এই রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির তদন্ত শুরু হয়।
এই ঘটনা সামনে আসার পর জার্মান রাজনীতি ও প্রশাসনের শীর্ষ মহলে চরম উদ্বেগ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পার্লামেন্টের শীর্ষ রাজনীতিকেরা এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত তা বের করতে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

