কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃষ্ণ সাগরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলায় জাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেখান থেকে ২৩ ভারতীয় নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে রাশিয়ার কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় দমকলকর্মীরা এখনো তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। তবে, জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্যাংকারটিতে ‘নৌ-ড্রোন’ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কৃষ্ণ সাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল আগুনে জ্বলছে। আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলে দমকলকর্মীরা আবারও তা নেভানোর চেষ্টা করবেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার সোচি শহরের কাছে। প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার শহরটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সমুদ্রে উজ্জ্বল কমলা রঙের আগুনের শিখা এবং সোচির আকাশে কালো ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী দেখা গেছে।
সোচির মেয়র সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, উপকূল ও সমুদ্রসৈকতে মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে।
এর এক দিন আগে রোমানিয়ার উপকূলে আরেকটি জাহাজে আগুন লেগে সেটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার হামলায় ওই তেলবাহী জাহাজের একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার উপকূলের কাছে ইউক্রেনীয় পণ্যবাহী শস্যের জাহাজেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় তাদের হামলা মস্কোর পক্ষ থেকে ইউক্রেনের শহর ও জনপদে চালানো ধারাবাহিক রাতের হামলার জবাব।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষই হামলার তীব্রতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানোর পাশাপাশি দিনের বেলায়ও ড্রোন দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানছে। এতে শহরটিতে তীব্র যানজট ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার পর সমুদ্রে তেলের আস্তরণ তৈরি, সমুদ্রসৈকত বন্ধ করে দেওয়া এবং আকাশ থেকে কালো বৃষ্টির মতো তেলজাতীয় পদার্থ পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্র: এনডিটিভি

