রেজিনগরের ভোটে কাঁদলেন হুমায়ুন, রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে প্রকাশ্যে কেঁদে ফেলেছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোট পরিচালনা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আর থাকতে চান না বলেও মন্তব্য করেছেন। এমনকি প্রয়োজনে বিধায়ক পদ ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হুমায়ুন। তিনি বলেন, রেজিনগরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। কথা বলার সময় বারবার চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। একই সঙ্গে রেজিনগরের মানুষের কাছেও ক্ষমা চান তিনি।
হুমায়ুনের অভিযোগ, আগে সিপিএম আমলে দলীয় কর্মীরা ভোট পরিচালনা করতেন আর পুলিশ তা দেখত। কিন্তু বর্তমানে পুলিশই দলীয় কর্মীর ভূমিকা পালন করছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ওই আসনে তার দল প্রার্থী করে ছেলে গুলাম নবি আজাদকে।
ভোটগ্রহণের দিন মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। পুলিশের দাবি, ভোটের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি নিজেও যদি পুলিশকে হুমকি দেন, তাহলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নন্দীগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হুমায়ুন আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা কক্ষে উপস্থিত থাকলে তিনি অধিবেশনে অংশ নেবেন না। কখনও তিনি বিধানসভায় না যাওয়ার কথা বলেছেন, আবার কখনও বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ হুমায়ুনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, হুমায়ুনের বিধানসভায় না আসাই ভালো। মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তার মন্তব্যের জবাব বিধায়করাই দেবেন। এখন ‘কুমিরের কান্না’ কেঁদে কোনো লাভ নেই।
এদিকে রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রেজিনগরে সংখ্যালঘু নারী ও তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বুধবার হুমায়ুন কবীরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই আসনে বিজেপি জয়ী হতে পারে।
রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতার, পুলিশের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ এবং রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

-6ac639b2cbdf7.jpg)