সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি হুথিদের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা জোরদার করার অংশ হিসেবে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে গোষ্ঠীটি। খবর দ্যা মিডল ইস্ট আই-এর।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদে আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে।’
আগামী দিনগুলোতেও বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা। সৌদি আরবের সঙ্গে গোষ্ঠীটির উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। গত শনিবার বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ এবার সরাসরি ও অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এতে নির্বাহীরা দূর থেকেই সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।
তবে কিছু অংশগ্রহণকারী রিয়াদে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর বাইরের বিমানঘাঁটি অথবা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দর ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
হুতিদের সঙ্গে সংঘাত বাড়লেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সৌদি সরকার।
এদিকে মঙ্গলবার ধাহরানে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবে হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়তে পারে। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সৌদি অর্থনীতি এই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর নেতিবাচক প্রভাব সর্বত্র, সবার ওপর পড়তে পারে।’
২০১৫ সালে ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধে জড়ানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির ওপর হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

