ইরানে নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের এক নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ধারাবাহিক সহিংসতার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।
বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, মেহরেস্তান শহরে নিজ বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হয়েছেন নারীদের বাসিজ ইউনিটের কমান্ডার আফসানেহ আঘিলা। তবে এ হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
বাসিজ হলো আইআরজিসির অধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী। ইরান সরকারের সমর্থনে কাজ করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনেও বাহিনীটির সদস্যদের ভূমিকা রয়েছে। বাসিজের নারী সদস্যরা বিভিন্ন শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণও পেয়ে থাকেন।
একই দিনে মেহরেস্তান শহরে পুলিশের একটি ভ্যানে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মোহাম্মদ-আলি শাহরিয়ারি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। নারী কমান্ডার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, অঞ্চলটিতে সক্রিয় সুন্নি জিহাদি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জৈশ আল-আদল তাদের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাফতান পর্বত এলাকা, কুরিন জেলা ও বন্দরনগরী চাবাহারে ইরানি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের তিন দফা সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে।
দারিদ্র্যপীড়িত সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে মূলত সুন্নি মতাবলম্বী বেলুচ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও উচ্চ বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে অঞ্চলটি। গত সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সুন্নি ও বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ইরান সরকারের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির সমর্থনে সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
এ পরিস্থিতিতে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথেও হাঁটছে ইরান। গত রোববার জৈশ আল-আদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক বেলুচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সূত্র: আল-মনিটর
