Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

বিশ্বরাজসিংহ। ফাইল ছবি

Advertisement

ভারতের মহারাষ্ট্রের ১ হাজার ৭০০ ফুট উঁচু কোনকানকাদা পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। গুজরাটের বাসিন্দা ওই যুবক মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে মৃত্যুর আগে ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তিনি তার সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে গেছেন।

নিহত বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা ছিলেন এবং ডাক বিভাগে চাকরি করতেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি তার বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই সংসার টেকে মাত্র আট মাস। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন, যে মামলায় গত ৯ অক্টোবর আদালতে হাজিরাও দিয়েছিলেন ওই যুবক।

মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিওতে বৈবাহিক সংকট ও আইনি লড়াই নিয়ে নিজের চরম হতাশার কথা প্রকাশ করেন বিশ্বরাজসিংহ।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি খাদে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আপনারা হয়তো ভাবছেন কী এমন ঘটল? যখন জীবনে আর কিছু বা কোনো আশাই অবশিষ্ট থাকে না... এবং যখন এই পরিস্থিতি কোনো ভালো সম্পর্ক থেকে তৈরি হয়, তখন তা আপনার আত্মাকে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। আমরা বলি বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন, যা জন্মজন্মান্তরের জন্য। কিন্তু বর্তমান যুগে দুজনের চিন্তা-ভাবনা, মেজাজ ও অভ্যাস না মিললে এবং মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব তৈরি হলে মানুষ তো বিচ্ছেদ ঘটিয়েই নেয়।’

সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তাদের দৈনন্দিন সাধারণ মতবিরোধকেও স্ত্রী ও তার পরিবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে।

বিশ্বরাজসিংহ বলেন, ‘তখন আমার ধারণাও ছিল না যে এমন এক ঝড় আমার জীবনে অপেক্ষা করছে। আমার বাড়িতে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি, অথচ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে আমি, আমার মা এবং আমার ভাই আমার স্ত্রীকে মারধর করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পুলিশ এফআইআর দায়ের করার সময় কোনো প্রমাণ বা মেডিকেল রিপোর্টও তলব করে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের’ কারণে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বরাজসিংহের দাবি, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘তারা দাবি করেন তাদের স্বর্ণালংকার আমাদের কাছে রয়েছে। অথচ সত্যি কথা হলো, যখন তার বাবা-মা তাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে নিজে বলেছিল যে সে যেতে চায় না। আমাদের সমাজের মানুষেরা এর সাক্ষী। সে আমাদের দেওয়া স্বর্ণ পরেই চলে গেছে, অথচ যখন আমরা আমাদের জিনিসপত্র ফেরত চাই, তখন এর কোনো বিচার বা তাদের ওপর কোনো চাপ থাকে না। সব চাপ শুধু ছেলের পরিবারের ওপরই আসে।’

প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘আমার শ্বশুর আমাকে বলতেন তিনি আমার বাবার মতো। কোনো বাবা কি তার সন্তানকে নিঃস্ব করেন, তার মানসিক অবস্থা ধ্বংস করেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন? একজন বাবা তো ক্ষমা করে দেন এবং আরেকটি সুযোগ দেন। আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু আমার মা এবং আমার ১৬ বছরের ছোট ভাইয়ের কী হবে, যাকে মিথ্যাভাবে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জড়ানো হয়েছে?’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ক্যানসারের ১৩৭ ওষুধের দাম কমাচ্ছে ভারত

ক্যানসারের ১৩৭ ওষুধের দাম কমাচ্ছে ভারত

যে ৫ কারণে পাশের দেশ ভারতে চালু হয়নি স্টারলিংক

যে ৫ কারণে পাশের দেশ ভারতে চালু হয়নি স্টারলিংক

আমার পাঁচ বছরের পরিশ্রম চুরি হয়ে গেছে: জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর

আমার পাঁচ বছরের পরিশ্রম চুরি হয়ে গেছে: জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর

বাংলাদেশ-নেপালের সঙ্গে ভারতের আন্দোলনের তুলনা, যা বললেন অভিজিৎ দিপকে

বাংলাদেশ-নেপালের সঙ্গে ভারতের আন্দোলনের তুলনা, যা বললেন অভিজিৎ দিপকে

মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ

মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ

ভারতে বিক্ষোভে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের

ভারতে বিক্ষোভে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের

আরও পড়ুন

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর

ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর

উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস

উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস

সৌদিতে আরামকো তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, নিহত ২

সৌদিতে আরামকো তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, নিহত ২

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম