যে ৫ কারণে পাশের দেশ ভারতে চালু হয়নি স্টারলিংক
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতে এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা উদ্বেগ, স্যাটেলাইট টার্মিনালের অপব্যবহার, স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, দীর্ঘ নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এবং দেশীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে ভারতে স্টারলিংকের যাত্রা জটিল হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জাতীয় নিরাপত্তা। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনাল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
ভারতের মণিপুরে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে সক্রিয় স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধারের ঘটনা এ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মাদক পাচারের একটি মামলায় ‘স্টারলিংক মিনি’ ব্যবহারের তথ্য সামনে আসার কথাও জানা গেছে। এসব ঘটনায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সরঞ্জাম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন দেশে টার্মিনালের অপব্যবহারের অভিযোগ
ভারতের বাইরেও বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় স্টারলিংকের সরঞ্জাম অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সুদান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্র, মিয়ানমারের সাইবার প্রতারণা চক্র এবং ইয়েমেনের মতো অঞ্চলে বিধিনিষেধ এড়িয়ে কালোবাজারে স্টারলিংক কিট ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে।
এসব ঘটনা ভারতে সেবাটি চালুর আগে সরঞ্জাম বিতরণ, ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।
টার্মিনালের অবস্থান শনাক্তের ঝুঁকি
স্টারলিংক টার্মিনালের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং আইডি বা এমএআইডির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোপনে ব্যবহৃত কিছু টার্মিনালের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং এর সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর ক্ষেত্রে তথ্যের সুরক্ষা ও নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ
নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও মূল্য নির্ধারণও স্টারলিংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা, মূল্য নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়েছে।
দেশীয় টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে স্বার্থের দ্বন্দ্ব
ভারতের দেশীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে স্টারলিংকের ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাতও আলোচনায় রয়েছে। ইলন মাস্কের অভিযোগ, দেশীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বাজারের আধিপত্য ধরে রাখতে প্রভাব খাটিয়ে স্টারলিংকের প্রবেশে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।
তবে ভারত সরকার এ অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো স্টারলিংককেও দেশের প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
কবে চালু হতে পারে স্টারলিংক?
সব মিলিয়ে, ভারতে স্টারলিংকের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পথে জাতীয় নিরাপত্তা, টার্মিনালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, সরকারি অনুমোদন এবং বাজার প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসব জটিলতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও শর্ত পূরণ করতে পারলেই ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করার পথ সহজ হতে পারে। তবে ঠিক কবে সেবাটি দেশটিতে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
