Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরান সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আছে ইসরাইলের?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ এএম

ইরান সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আছে ইসরাইলের?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইরানের সরকারের পতন ঘটানোকে ইসরাইলের ‘প্রধান লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা থাকলেও দেশটির সরকার উৎখাত করা ইসরাইলের পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে সমর্থন কমতে থাকার মধ্যে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা এবং পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে ইরানে নতুন করে হামলা কিংবা দেশটির সরকার উৎখাতের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারলেও কেবল বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সরকার পতন ঘটানো কঠিন। আর স্থল অভিযান চালাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি ও বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হবে।

ইরানে হামলার সক্ষমতা কতটা ইসরাইলের?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা ইসরাইলের রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) গবেষক আরবান কনিংহ্যাম বলেন, ইসরাইলের আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুত ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা দেশটিকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেয়। এর মাধ্যমে ইসরাইল আবারও ইরানের আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।

তবে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা আর একটি দেশের সরকার উৎখাত করা এক বিষয় নয়। বিমান হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা কঠিন।

তুরস্কের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচের মতে, বিমান হামলা কোনো দেশের সামরিক সক্ষমতা কমাতে পারে, কিন্তু তার আক্রমণাত্মক সামর্থ্য পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে না। আকাশপথের হামলা থেকে সুরক্ষিত গোপন ও সুদৃঢ় স্থাপনাগুলো টিকে যেতে পারে।

সরকার পতনে স্থল অভিযান কি অপরিহার্য?

ইরানের সরকার পরিবর্তনের প্রশ্নে স্থল অভিযানের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নেতানিয়াহুও গত মার্চে স্বীকার করেছিলেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এর জন্য স্থল অভিযানও প্রয়োজন।

তবে ইরানের মতো বড় দেশে সেনা মোতায়েন করে দীর্ঘদিন অবস্থান করা ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। কুরচের মতে, কোনো সরকারকে উৎখাত করতে হলে শুধু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো যথেষ্ট নয়; বরং সেনা মোতায়েন করে কয়েক বছর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার হামলাও ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হতে পারে। তবে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার পতন নিশ্চিত করার মতো সুস্পষ্ট কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের অভ্যন্তরে কুর্দি কিংবা বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী অভিযান জোরদার করার সম্ভাবনাও সীমিত। কনিংহ্যামের মতে, কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক লড়াই চালানোর মতো সক্ষমতা নেই।

ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি

ইসরায়েলের সামরিক শক্তি বেশি হলেও ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র নতুন সংঘাতকে ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। আরইউএসআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশলের মতে, ইরানের লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও আঘাত হানার ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ইরানকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও বিমান হামলা থেকে কিছু সামরিক স্থাপনা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে। ইরানের তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরাইলকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। এতে দেশটির প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিপরীতে, ইরান তুলনামূলক কম খরচে কিছু অস্ত্র ব্যাপক হারে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে।

ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি শুধু ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলোও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

নতুন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কি পাশে থাকবে?

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সমর্থন পাওয়া অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ইসরায়েলের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্পের সম্মতি মেলেনি। তবে তা ভবিষ্যতে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়া ইসরাইলের জন্য ইরানের গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলা চালানো আরও কঠিন হবে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি এসব অস্ত্রের সমতুল্য সক্ষমতা ইসরায়েলের এককভাবে নেই বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ না নিলে ইরানও পাল্টা হামলার ক্ষেত্রে কৌশলগত হিসাব করতে পারে। ওয়াশিংটনকে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। এতে ইসরাইলকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত কি সরকার পতন ঘটাতে পারবে ইসরাইল?

বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, ইরানের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎখাত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি লক্ষ্য। প্রথমটি অর্জনের সামর্থ্য ইসরায়েলের থাকলেও দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়।

কুরচের মতে, দীর্ঘদিন সেনা মোতায়েন ও অবস্থান ছাড়া কোনো সরকারকে উৎখাত করা অত্যন্ত কঠিন। ইরানের মতো বিশাল ভূখণ্ডের দেশকে ইসরায়েলের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবসম্মত নয়। তার মূল্যায়নে, যুক্তরাষ্ট্রও আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী হবে না।

সূত্র: আলজাজিরা


Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

হঠাৎ ইরান সীমান্তে ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, নেপথ্যে কী?

হঠাৎ ইরান সীমান্তে ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, নেপথ্যে কী?

ব্যাপক হামলার ছক কষেছিল ইসরাইল, বাগড়া দেন ট্রাম্প

ব্যাপক হামলার ছক কষেছিল ইসরাইল, বাগড়া দেন ট্রাম্প

‘একসঙ্গেই শেষ করব’, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কথোপকথনে কী ইরানে হামলার ইঙ্গিত?

গালফ নিউজের প্রতিবেদন ‘একসঙ্গেই শেষ করব’, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কথোপকথনে কী ইরানে হামলার ইঙ্গিত?

যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান

যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান

ইরানের সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইরানের সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

আরও পড়ুন

ইরান সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আছে ইসরাইলের?

ইরান সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আছে ইসরাইলের?

হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা

পিএইচপির এক ত্রুটিতেই বিশ্বজুড়ে অনলাইন সেবায় বিপর্যয়, ঝুঁকিতে কোটি সার্ভার

পিএইচপির এক ত্রুটিতেই বিশ্বজুড়ে অনলাইন সেবায় বিপর্যয়, ঝুঁকিতে কোটি সার্ভার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম