বিজেপি-শিবসেনা জোটের সম্পর্কে ফাটল, ভারতের রাজনীতিতে কী ঘটছে?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজনীতিতে আবার বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এক হয়ে সরকার চালালেও, সম্প্রতি একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনার সূচনা একটি ৫০০ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। মারাঠা আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে-পাটিল একটি অডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, উপ- মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছেলে শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে তাকে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শিন্ডে ও তার দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে বিজেপি এই অডিও ক্লিপটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
ঘটনার তদন্তের জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ একটি বিশেষ ফরেনসিক দল গঠন করেছেন। ফড়নবীশ প্রশ্ন তুলেছেন, আড়াই বছর আগের একটি কথিত কথোপকথনের অডিও হুট করে এখন কেন সামনে আনা হলো?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবসেনা ও বিজেপির সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে উঠেছে। শিবসেনা নেতা রামদাস কদম সরাসরি অভিযোগ করেছেন, বিজেপির ভেতরের একটি পক্ষ একনাথ শিন্ডে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। শিন্ডের জনপ্রিয়তা দেখে বিজেপি ভয় পাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া দলের বিরুদ্ধে এমন মনগড়া কথা মেনে নেওয়া হবে না।
বাস্তবে এই দুই দলের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দ্বন্দ্বে বহু পুরোনো। ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডে উদ্ধব ঠাকরের সাথে সম্পর্ক ভেঙে বিজেপির সাথে হাত মেলান এবং নিজে মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একাই ১৩২টি আসন পায়, আর শিন্ডের দল পায় মাত্র ৫৭টি আসন। ভোটের ফল বদলে যাওয়ার পর দেবেন্দ্র ফড়নবীশ আবার মুখ্যমন্ত্রী হন এবং শিন্ডেকে দেওয়া হয় উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ। পদ পাওয়ার পর থেকেই দুই দলের মধ্যে ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল।
ইতোমধ্যে শিবসেনার নেতারা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছেন যে, ২০২৯ সালের পরবর্তী নির্বাচনে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে তারা একনাথ শিন্ডেকে আবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসাতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অডিও বিতর্ক এবং শিবসেনা নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বস্তুত ভবিষ্যতের ক্ষমতার দখল এবং দরকষাকড়িরই একটি বড় সংকেত।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

