Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৭৭ কোটি ডলারের অনুদান, শীর্ষে ইলন মাস্ক

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৭৭ কোটি ডলারের অনুদান, শীর্ষে ইলন মাস্ক

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনুদানের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ৫০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ অর্থ দিয়েছে। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। রিপাবলিকানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে তিনি দিয়েছেন ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাতে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনে পরিণত হতে পারে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনেই ব্যয় হতে পারে ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার। এ ব্যয় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নির্বাচনী অনুদানের বড় অংশ আসছে ধনকুবের, রাজনৈতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে। এসব অর্থের একটি অংশ একাধিক সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করা হয়।


আল জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ৫০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মোট ২৭৭ কোটি ডলারের মধ্যে রিপাবলিকানপন্থী গোষ্ঠীগুলো পেয়েছে ১৬৭ কোটি ডলার। মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ এ গোষ্ঠীগুলোর কাছে গেছে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থী গোষ্ঠীগুলো পেয়েছে ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার পেয়েছে দ্বিদলীয় ও বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো। এর মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ক্রীড়াভিত্তিক বাজি খাতের পক্ষে কাজ করা সংগঠনও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি ২০২৫-২৬ নির্বাচনী চক্রে কোনো কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রার্থীকে প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। তবে সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকের মাধ্যমে সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের সুযোগ থাকায় বড় দাতারা বিপুল অর্থ নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত করতে পারেন।

সুপার প্যাক প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতা করে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালায়। তবে প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থ ব্যয় করার অনুমতি তাদের নেই। এসব সংগঠনকে অনুদানদাতাদের তথ্য প্রকাশ করতে হলেও কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থের মূল উৎস প্রকাশ্যে আসে না। ফলে রাজনৈতিক অর্থায়নে ‘ডার্ক মানি’ বা অপ্রকাশিত অর্থের প্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শীর্ষ দাতাদের তালিকায় কারা

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অনুদানদাতা ইলন মাস্ক। তাঁর পর রয়েছেন ইউলাইন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলাইন দম্পতি এবং ব্যবসায়ী জেফ ও জ্যানিন ইয়াস।

রিপাবলিকানপন্থী শীর্ষ তিন ব্যক্তিগত দাতার অনুদান হলো—

ইলন মাস্ক: ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার

এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলাইন: ১৫ কোটি ডলার

জেফ ও জ্যানিন ইয়াস: ১১ কোটি ডলার

ডেমোক্র্যাটপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বড় ব্যক্তিগত অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ধনকুবের জর্জ সরোস, সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল ই।

ডেমোক্র্যাটপন্থী শীর্ষ তিন দাতার অনুদান—

জর্জ সরোস: ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার

মাইক ব্লুমবার্গ: ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার

রিড হফম্যান ও মিশেল ই: ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজন ব্যক্তিগত দাতা প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কারের প্রবক্তা লরেন্স লেসিগের মতে, নির্বাচনে মোট ব্যয়ের চেয়ে অল্প কয়েকজন দাতার হাতে বিপুল অর্থ কেন্দ্রীভূত হওয়াই বড় উদ্বেগের বিষয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদানেও বিপুল অর্থ

রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে সিনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ান নেশন দিয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক দিয়েছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এবং আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স দিয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠন মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ডের অনুদান ৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার এবং ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ডের অনুদান ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান কয়েনবেস দিয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ব্লকচেইনভিত্তিক অর্থ লেনদেন প্রতিষ্ঠান রিপল দিয়েছে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ক্রিপ্টো ডটকম পরিচালনাকারী ফোরিস ডিএএক্স দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ ছাড়া শিল্পগোষ্ঠী কচ দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং ক্রীড়াভিত্তিক বাজি প্রতিষ্ঠান ড্রাফটকিংস দিয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ফের মার্কিন নাগরিকদের সৌদি ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ফের মার্কিন নাগরিকদের সৌদি ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থিরা, চায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন

পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থিরা, চায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

এবার প্রকাশ্য সমাবেশে র‍্যাপার নিকি মিনাজের শরীর নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ট্রাম্পের

এবার প্রকাশ্য সমাবেশে র‍্যাপার নিকি মিনাজের শরীর নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ট্রাম্পের

আরও পড়ুন

ফের মার্কিন নাগরিকদের সৌদি ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ফের মার্কিন নাগরিকদের সৌদি ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

হোটেলের রুমে ঢুকেই নববধূর মৃত্যু, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রহস্য

হোটেলের রুমে ঢুকেই নববধূর মৃত্যু, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৭৭ কোটি ডলারের অনুদান, শীর্ষে ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৭৭ কোটি ডলারের অনুদান, শীর্ষে ইলন মাস্ক

১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম