নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন তো ট্রাম্প?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ফল পক্ষে না গেলে তিনি তা নাও মানতে পারেন। এই বক্তব্য কেবল কোনো সাময়িক রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির নেতা হিসেবে নিজের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি আবারও তার বহুচর্চিত কৌশল প্রয়োগ করছেন। নির্বাচনের বেশ ক মাস আগে থেকেই তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করছেন। ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে জালিয়াতিরও অভিযোগ তুলছেন তিনি। নির্বাচন শুরুর আগেই এই ধরনের অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন।
সম্প্রতি টেক্সাসের এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, তিনি তা মেনে নেবেন কি না। যেকোনো আধুনিক রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর সহজ হলেও, ট্রাম্পের জবাব ছিল শর্তযুক্ত ও সতর্কতামূলক। তিনি বলেন, যদি নির্বাচন সৎ ও স্বচ্ছ হয়, তবে অবশ্যই মানব। কিন্তু এই উত্তরের আড়ালে বড় ধরনের উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। ট্রাম্প বাস্তবে নিজেকেই একটি নির্বাচনের সততা বিচারের একমাত্র বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও তিনি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই জালিয়াতির দাবি করেছিলেন, যদিও তার নিজের দলের একাধিক কর্মকর্তা, দেশের আদালত এবং বিচার বিভাগ সেসব দাবি খারিজ করে দিয়েছিল।
এবারও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের অনুকূলে নিতে প্রশাসন নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আলাস্কা রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ড্যান সুলিভান হেরে গেলে সেই নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা বা সার্টিফাই করা আটকে দিতে বিচার বিভাগকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় অনাগরিক ভোটার শনাক্ত করার অজুহাতে বিচার বিভাগ থেকে নির্দেশ জারি করা হলেও আদালত তা আটকে দেয়। অতীতে ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার ট্রাম্পের ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরোধিতা করলেও, বর্তমান বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এমন রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন বা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
আমেরিকান রাজনীতির আধুনিক ইতিহাসে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী ও সহিংস আক্রমণ একটি অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়। সেবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বহু মাস আগে থেকেই ট্রাম্প একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে সমর্থকদের মনে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বারবার বলেছিলেন যে কেবল ‘সুষ্ঠু’ হলেই তিনি ফল মেনে নেবেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ট্রাম্প কোনো ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেননি। তবে এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত ইমেজ হিসেবে নিজেকে সর্বদাই একজন ‘বিজয়ী’ হিসেবে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করা তার তৈরি করা এই ইমেজের সঙ্গে খাপ খায় না। ফল বিপর্যয় ঘটলে ট্রাম্প আইনি লড়াই চালিয়ে নির্বাচনের ফল স্থগিত রাখার বা বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারেন। অবশ্য অনেক ডেমোক্র্যাট এবং রাজ্য নির্বাচনী কর্মকর্তারা আগে থেকেই এ ধরনের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্প যদি এবারও ফল অস্বীকার করার চেষ্টা চালান, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা নতুন করে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন

-6ae1d88933b77.jpg)