মোদির কেন্দ্রে দুই আসনেই হার বিজেপির, শক্ত ঘাঁটি নাগপুরেও কংগ্রেসের জয়
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সামগ্রিক সাফল্যের মধ্যেও কয়েকটি আসনে অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে দুটি আসনেই বিজেপির পরাজয়ের খবর এসেছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বিধান পরিষদের একটি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দপ্তর নাগপুরে কংগ্রেসের এই জয়কে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের মোট ২৮টি আসনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কংগ্রেসের সামগ্রিক ফল আশানুরূপ হয়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি অধিকাংশ আসনে পরাজিত হয়েছে। তবে নাগপুরের আসনে কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়ানজারির জয় দলটির জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
নাগপুর দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও আরএসএসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এমন একটি এলাকায় কংগ্রেসের জয় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
কর্নাটকে চার আসনেই হার কংগ্রেসের
কর্নাটকে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিধান পরিষদ নির্বাচনে চারটি আসনেই পরাজিত হয়েছে কংগ্রেস। এর মধ্যে দলটির দখলে থাকা একটি আসনও রয়েছে। ফলে রাজ্যে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এবং নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিহারে শিক্ষক নির্বাচনি এলাকায় বড় পরিবর্তন
বিহারের নির্বাচনি ফলেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পাটনা, সারণ, দরভাঙ্গা ও তিরহুতের চারটি শিক্ষক নির্বাচনি এলাকার আসনে বর্তমান সদস্যরা পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, পাটনা, তিরহুত ও কোসি স্নাতক নির্বাচনি এলাকার আসনগুলোতে জয় ধরে রেখেছেন বর্তমান সদস্যরা।
অর্থাৎ, শিক্ষক নির্বাচনি এলাকাগুলোতে প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তন ঘটলেও স্নাতক নির্বাচনি এলাকার তিনটি আসনে পুরোনো প্রতিনিধিরাই নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
পাটনা শিক্ষক নির্বাচনি এলাকায় রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী চিকিৎসক সঞ্জীব কুমার বিজেপির নবল কিশোর যাদবকে পরাজিত করেছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে আসনটি নবল কিশোর যাদবের দখলে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল হারানো বিজেপির জন্য এ পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দরভাঙ্গা শিক্ষক নির্বাচনি এলাকায় কংগ্রেসের মদন মোহন ঝা জন সুরাজের প্রার্থী সুরেশ প্রসাদ রায়ের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ ফল বিহারের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও প্রভাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সামগ্রিক ফলে এগিয়ে এনডিএ, তবে রয়েছে ভিন্ন চিত্রও
চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সামগ্রিক সাফল্যের পাশাপাশি রাজ্যভেদে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রবণতাও সামনে এসেছে। নাগপুরে কংগ্রেসের জয়, বিহারে বিজেপির দীর্ঘদিনের দখলে থাকা আসন হারানো এবং কর্নাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের চারটি আসনেই পরাজয়—সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফল একক কোনো রাজনৈতিক প্রবণতাকে তুলে ধরছে না।
তবে বিধান পরিষদের নির্বাচনকে সরাসরি লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ সীমিত। শিক্ষক ও স্নাতক নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের ধরন সাধারণ নির্বাচনের ভোটারদের থেকে আলাদা। ফলে এসব নির্বাচনের ফল জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করলেও এর ভিত্তিতে আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায় না।
সব মিলিয়ে, চার রাজ্যের নির্বাচনে এনডিএর সামগ্রিক সাফল্যের মধ্যেও নাগপুরে কংগ্রেসের জয় এবং বিহার ও কর্নাটকে বিভিন্ন দলের পরাজয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি কেন্দ্র বারাণসীতে বিজেপির দুটি আসন হারানোর খবর সত্য হলে তা দলটির জন্য বাড়তি রাজনৈতিক চাপের কারণ হতে পারে।

-6ae323c871fb5.jpg)