রাজনাথ সিং
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির প্রস্তাব ভারতের
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্ত্রাসবাদ দমনে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত ভারত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফিলিপাইনের সেবু শহরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জোটটির সংলাপ সহযোগী দেশগুলোর সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে ভারতের অর্জিত অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে কাজে লাগতে পারে।
সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ভারতের অভিজ্ঞতা কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা বা তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তার ভাষ্য, সীমান্তপারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে কয়েক দশকে ভারত যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা বাস্তব অভিযানের মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত।
রাজনাথ সিং বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলগুলো বাস্তব অভিযানে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে। ভারত নিজেদের সন্ত্রাসবিরোধী অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এ ক্ষেত্রে যৌথ সামরিক মহড়া, দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচি এবং গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর আদান-প্রদানের ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ভারত এমন একটি নিরাপদ ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার পক্ষে, যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা শুধু আকাঙ্ক্ষা হয়ে থাকবে না, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক হুমকি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে শুধু বিবৃতি দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পরিস্থিতির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ভারত বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবে বলেও জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সমুদ্রপথে বাণিজ্য সচল রাখা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

