যমুনায় ডুব দিয়ে ‘দূষণমুক্ত’ ঘোষণা বিজেপি এমপির
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের রাজধানী দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নদীতে ডুব দিয়ে পানি পরিষ্কার বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। শুধু ডুবই দেননি, নদীর পানি হাতে নিয়ে পানও করেছেন তিনি। তার দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেক কমেছে। তবে পরিবেশগত তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি অংশে দূষণের মাত্রা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক ওপরে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনায় ডুব দেন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এই সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি বলেন, নদীতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে পানির মানের উন্নতি হয়েছে। তার দাবি, ‘এখানে কুমির থাকতে পারে, তবে কুমির শুধু পরিষ্কার পানিতেই থাকে।’
মনোজ তিওয়ারি আরও দাবি করেন, যমুনার পানি এখন ছটপূজার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব। নদী পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
বিজেপি দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে কাজ করেছে, কংগ্রেস ও এএপি ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। একই সঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানায় দলটি।
এর জবাবে এএপির দিল্লি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, যমুনার পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ সব সময়ই তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। তার দাবি, দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএপি সরকারের আমলে ওই অংশের পানির মান আরও ভালো ছিল।
ভরদ্বাজ পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার আমন্ত্রণ জানান।
পরিসংখ্যানে কী বলছে যমুনার পানি?
এনডিটিভির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যমুনার দূষণের মাত্রা দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় এক রকম নয়। নদীর পানির জৈব দূষণ পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি)। পানিতে জৈব বর্জ্য ভাঙতে অণুজীবের যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তা দিয়ে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। বিওডির মাত্রা যত বেশি, সাধারণত জৈব দূষণও তত বেশি।
গোসলের উপযোগী পানির ক্ষেত্রে বিওডির গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার কম। কিন্তু দিল্লির কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এই মাত্রা অনেক বেশি পাওয়া গেছে।
দিল্লিতে প্রবেশের স্থানে পাল্লায় বিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম, যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে। কিন্তু আইএসবিটি সেতু এলাকায় তা বেড়ে ৩০ মিলিগ্রাম এবং আইটিও এলাকায় ১৮ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে।
