ভুটানে হিমবাহ হ্রদ উপচে বন্যার শঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গ-আসামে সতর্কতা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিমবাহের হ্রদ থেকে পানি উপচে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে সতর্ক করেছে ভুটান সরকার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদে হিমবাহের পানি উপচে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে মো ছু নদীর তীরে অবস্থিত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ গাসা ছাচুর সব স্থাপনা পানির তোড়ে ভেসে গেছে। তবে আগেই এলাকাটি খালি করে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
মো ছু নদীর উৎসস্থলে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদকে ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গাসা ছাচুর স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় মো ছু নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকায় পানি প্রবেশ করেছিল।
সর্বশেষ বন্যার পানি পুনাখা জেলার কাবেসা এলাকার স্রিগাং অতিক্রম করেছে। স্থানটি পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে।
ভুটান সরকার জানিয়েছে, দেশটির সীমান্তবর্তী কয়েকটি ভারতীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। আসামের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকা, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা প্রশাসনও সংকোশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। নদীটির উৎপত্তি উত্তর ভুটানে। মো ছু ও ফো ছুসহ কয়েকটি নদীর মিলিত প্রবাহে সংকোশ নদী গঠিত হয়েছে। পরে এটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশেছে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ বলেন, এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
এদিকে বন্যায় ভুটানের অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। পুনাখা জেলার গুমা এলাকার একটি সৌরচালিত সেচব্যবস্থা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ব্যবস্থাটি আপাতত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জোমলিংথাং এলাকায় পুনাখা-গাসা মহাসড়কের একটি অংশ বন্যার পানিতে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে।
হিমবাহের হ্রদ ভেঙে বন্যা কেন হয়?
হিমবাহ গলে বা সরে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট গর্তে বিপুল পরিমাণ পানি জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এসব হ্রদের পানি আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসে। একে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (জিএলওএফ) বলা হয়।
ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস, তুষারধস, ভূমিকম্প কিংবা দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে এ ধরনের বন্যা হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলার প্রবণতা বাড়ায় এ ধরনের বন্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।

-6ae4145cac076.jpg)