‘আরবদের কথার কোনো মূল্য নেই’
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটে বড় ধরনের উত্থান ঘটলেও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে দেশটির প্রধান ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছালেও তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা। এতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বর্ণবাদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অন্যদিকে, নিজেদের জায়নবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া বিরোধী দলগুলোর জোটও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ব্যাপক ভোটগ্রহণ। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। এবারের নির্বাচনে তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) ও জয়েন্ট লিস্ট পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে মোট ১৯টি আসন পেয়েছে।
এই ১৯টি আসন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই নির্বাচনী সাফল্যকে স্বাগত জানানোর পরিবর্তে নেতানিয়াহুর দল বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। এমনকি বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি ভোটারের অংশগ্রহণের পেছনে বিদেশি প্রভাব ছিল কি না, তা তদন্ত করতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে আহ্বান জানিয়েছে লিকুদ পার্টি।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সরকারের বিরোধিতা করলেও ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা দেখাচ্ছেন ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর বড় একটি অংশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ নির্বাচনের রাতেই ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। অথচ ২০২১-২২ সালে তাদের নেতৃত্বাধীন সরকার ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
বৃহস্পতিবার বিরোধী নেতা ও কট্টর ডানপন্থি ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির প্রধান আভিগদর লিবারম্যানও ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করেন।
ফিলিস্তিনি দল বালাদের প্রার্থী অরলি নয় বলেন, গাজায় ইসরায়েলি সরকারের যুদ্ধ এবং দেশটির অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা ভোটারদের ব্যাপকভাবে কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করেছে। ফিলিস্তিনিদের হাতে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ যে হাতিয়ারটি ছিল, সেটি তাদের ভোটাধিকার। এবার তারা বিপুলসংখ্যায় সেই অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এখন সেই ভোটের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সব ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি দলগুলোর ১৯টি আসন যোগ করলে পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুবিরোধী পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গের মতে, ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতির একটি বড় অংশে ইহুদি আধিপত্যের ধারণা প্রতিষ্ঠিত। ফলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নির্বাচনী শক্তিকে অনেকেই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
জয়েন্ট লিস্টের প্রচার বিভাগের পরিচালক মাউরিসিও ল্যাপচিক বলেন, অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন ফলাফল হলে বিরোধী পক্ষের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ইসরাইলে আরবদের কণ্ঠস্বর ইহুদিদের কণ্ঠস্বরের সমান গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিজয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
