পাকিস্তানে এলপিজির তীব্র সংকট, দাম বাড়ল কয়েক গুণ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
পাকিস্তানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাফতান সীমান্ত দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ রুপিতে। খবর জিও নিউজের।
এদিকে সরকার নির্ধারিত এলপিজির দামও প্রতি কেজিতে ১৪ রুপি বাড়িয়ে ২৯৪ রুপি করা হয়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
বেলুচিস্তানের কোয়েটাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৭০০ রুপিতে। করাচি ও লাহোরে এই দাম ৫২০ থেকে ৫৮০ রুপি। অন্যদিকে পেশোয়ারে প্রতি কেজি গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ রুপিতে।
লাহোরের ভোক্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২৯৪ রুপি নির্ধারণ করলেও স্থানীয় দোকানগুলোতে তা ৫৫০ থেকে ৬০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
এদিকে লাহোরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে তেল ও গ্যাসের বাজারে।
তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সরকার সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। পাশাপাশি দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আরও বলেন, কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে পেট্রোল সরবরাহ করছে বলেও জানান।
অন্যদিকে, এলপিজির মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন পাকিস্তান এলপিজি মার্কেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলী হায়দার।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতি কার্যকর হলে এলপিজির দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নীতিটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলী হায়দারের মতে, এলপিজির দাম বাড়লে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণে এলপিজি খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে বাজারব্যবস্থা উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

