২০০ কোটি রুপির বিয়েতে ফাঁস ৯০ হাজার কোটির জুয়ার সাম্রাজ্য
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের আলোচিত মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমায় তার প্রায় ২০০ কোটি রুপি ব্যয়ের জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানই এখন ভারতের প্রায় ৯০ হাজার কোটি রুপির কথিত অনলাইন জুয়া সাম্রাজ্যের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ জারির পর সৌরভকে আটক করেছিল ওমানের রয়্যাল পুলিশ। পরে তাকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সিবিআইয়ের একটি দল তাকে দেশে নিয়ে আসে। প্রথমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ট্রানজিট রিমান্ডের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এরপর তাকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরের বিশেষ আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
সৌরভ চন্দ্রকর মহাদেব অনলাইন বুক নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা। অর্থপাচারের অভিযোগে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) করা মামলায় তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। সিবিআইয়ের দুটি এবং ইডির একটি মামলায় তিনি খোঁজে ছিলেন। এসব মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা, মহাদেব বেটিং চক্রের আয় বিভিন্ন স্তরের ব্যাংক হিসাব ঘুরিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো। এসব অর্থের একটি অংশ প্রভাবশালী মহলকে সুবিধা দিতেও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যেভাবে গড়ে ওঠে বেটিং সাম্রাজ্য
ইডির দাবি, ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা সৌরভ চন্দ্রকর ও রবি উপ্পল যৌথভাবে এই বেটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। শুরুতে তারা ছোট পরিসরে ব্যবসা করলেও ২০১৯ ও ২০২০ সালের দিকে তাদের অনলাইন জুয়ার ব্যবসা দ্রুত বিস্তৃত হয়। করোনাকালে মানুষ ঘরে অবস্থান করায় অনলাইন কার্যক্রম বেড়ে গেলে এই নেটওয়ার্কের পরিধিও আরও বড় হয়। একপর্যায়ে তারা দুবাইয়ে চলে যান এবং সেখান থেকেই ভারতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন।
তদন্ত সংস্থার ভাষ্য, দুবাইয়ের সদর দপ্তর থেকে ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ব্যবহারকারীর পরিচয়, বাজির অর্থ এবং বিভিন্ন রাজ্যে থাকা স্থানীয় পরিচালনাকেন্দ্র বা প্যানেল নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ভারতে সরাসরি ব্যবসা পরিচালনার ঝুঁকি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও প্যানেল পরিচালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলেও সফটওয়্যার, গ্রাহক, হিসাব এবং আয়ের নিয়ন্ত্রণ থাকত মূল উদ্যোক্তাদের হাতে।
ইডির তদন্তে এ ধরনের ৩ হাজার ২০০টির বেশি প্যানেল ও শাখার সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি প্যানেল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ রুপি দিতে হতো। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ ও কর্মী সংগ্রহ করতে হতো। সদর দপ্তর থেকে দেওয়া মাস্টার আইডি ও লগইন তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের বেটিং অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হতো।
একটি প্যানেলের অধীনে আবার একাধিক উপ-প্যানেল পরিচালনার সুযোগ ছিল। তদন্ত সংস্থার দাবি, মোট লাভের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ চলে যেত দুবাইয়ের সদর দপ্তরে। অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্যানেল পরিচালকদের মধ্যে ভাগ হতো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ
ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বড় অনুষ্ঠান, তারকাদের প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি দেখিয়েও মানুষকে আকৃষ্ট করা হতো।
কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে তাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া হতো। ওই নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ হতো প্যানেল পরিচালকের সঙ্গে। মাত্র ১০০ রুপি জমা দিয়েই বাজি শুরু করার সুযোগ ছিল। এরপর গ্রাহককে একটি পরিচয় নম্বর ও বাজির ক্রেডিট দেওয়া হতো। ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, তাসসহ বিভিন্ন খেলায় বাজি ধরতে পারতেন তারা।
তবে তদন্তকারীদের অভিযোগ, কোনো গ্রাহক বড় অঙ্কের অর্থ জিতলে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হতো অথবা জেতা অর্থ পরিশোধে বাধা সৃষ্টি করা হতো।
প্রতি সপ্তাহে প্যানেলগুলোর হিসাব সদর দপ্তরে জমা পড়ত। প্রতি সোমবার অর্থের লেনদেন নিষ্পত্তি করা হতো। কোনো প্যানেল অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার লগইন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হতো। দুবাইয়ের প্রধান কল সেন্টারে প্রায় এক হাজার কর্মী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে ইডির দাবি। হিসাব, প্যানেল ও অর্থ লেনদেন পর্যবেক্ষণে ১২ ঘণ্টার পালায় কাজ করতেন কর্মীরা।
৯০ হাজার কোটি রুপির লেনদেনের অভিযোগ
ইডির হিসাবে, মহাদেব অনলাইন বুকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেটিংয়ের পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার কোটি রুপি। এ ছাড়া স্কাইএক্সচেঞ্জ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি রুপি এবং লোটাস৩৬৫-এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি রুপির লেনদেন হয়েছে বলে সংস্থাটির দাবি।
সব মিলিয়ে মহাদেব নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর আনুমানিক লেনদেনের পরিমাণ ৮৮ হাজার থেকে ৯৪ হাজার কোটি রুপি। এর মধ্যে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি রুপি ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ছয়টি অভিযোগপত্র দিয়েছে ইডি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ জনকে।
অর্থপাচারে ব্যবহার করা হতো যেসব কৌশল
তদন্ত সংস্থার দাবি, বেটিং থেকে পাওয়া অর্থ সরাসরি উদ্যোক্তাদের কাছে যেত না। বরং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে একাধিকবার লেনদেন করা হতো। এসব হিসাবের অনেকগুলোর মালিকের সঙ্গে বেটিং ব্যবসার কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিছু হিসাব ভাড়া নেওয়া হতো, আবার কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের বিনিময়ে অন্যের হিসাব ব্যবহার করা হতো। এমনকি কারও অজান্তে পরিচয়পত্র ব্যবহার করেও ব্যাংক হিসাব খোলার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের হিসাবকে তদন্তকারীরা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একই অর্থ একাধিক ব্যাংক হিসাব, কোম্পানি ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরিয়ে পাঠানো হতো। এতে অর্থের প্রকৃত উৎস ও শেষ পর্যন্ত কার কাছে যাচ্ছে, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত।
মোবাইল ফোনের দোকান, ছোট কোম্পানি ও অন্যান্য ব্যবসার মাধ্যমেও নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করানো হতো বলে ইডির দাবি। কিছু ব্যক্তি প্রতি এক লাখ রুপি জমা দেওয়ার বিনিময়ে এক থেকে দুই শতাংশ কমিশন নিতেন।
তদন্তে নাভি মুম্বাইয়ে প্রায় ৮৮৬টি মিউল অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইডি। এসব হিসাবে প্রায় ৮৪ কোটি রুপির লেনদেন হয়েছে। রায়পুরেও এমন ৪৩১টি হিসাব শনাক্ত করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর নজরদারি বাড়ার পর হুন্ডির ব্যবহার বেড়েছিল বলে তদন্ত সংস্থার দাবি। এ পদ্ধতিতে এক দেশে নগদ অর্থ জমা দিয়ে অন্য দেশে সমপরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়; আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকেই এ লেনদেন সম্পন্ন হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানেই মিলেছে অর্থের হিসাব
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাস আল খাইমায় সৌরভ চন্দ্রকরের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য নাগপুর থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। অনুষ্ঠানে বিনোদন জগতের তারকাদেরও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুরো আয়োজনের ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি রুপি বলে ধারণা করা হয়।
ইডির দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হুন্ডির মাধ্যমে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১২ কোটি রুপি পাঠানো হয়েছিল। এ ছাড়া হোটেল বুকিংয়ের জন্য নগদে খরচ করা হয় প্রায় ৪২ কোটি রুপি। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উদ্ধার করা নথিতে বিয়ের খরচের বিস্তারিত হিসাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অতিথিদের তালিকায় ‘টিম’, ‘ব্যবসা’ ও ‘বন্ধু’— এমন আলাদা শ্রেণি করা হয়েছিল। আয়োজকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হুন্ডি চক্রের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় হিসাববহির্ভূত প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ রুপি নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে আরেকটি বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আরেকটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও তদন্ত সংস্থার হস্তক্ষেপে তা বাতিল হয়। ইডির ধারণা, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বেটিং নেটওয়ার্কের প্রচার এবং নতুন গ্রাহক ও প্যানেল পরিচালকদের আকৃষ্ট করা হতো।
রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
মহাদেব বেটিং মামলায় একাধিক ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে এসেছে। ইডির দাবি, নেটওয়ার্কের সহ-নিয়ন্ত্রক রবি উপ্পল হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অর্থ ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির জন্যও তিনি একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ।
মহাদেব অ্যাপের আরেক উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত শুভম সোনি ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ইডিকে পাঠানো এক ইমেইলে নিজেকে অ্যাপটির উদ্যোক্তা বলে পরিচয় দেন। সংস্থার দাবি, ওই ইমেইলে তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়মিত কমিশন দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের কাছে ‘ভার্মা জি’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ৫০৮ কোটি রুপি পৌঁছেছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের কয়েক দিন আগে অসীম দাস নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায়পুরের একটি হোটেলের ৩১১ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় ৫ কোটি ৩৯ লাখ রুপি জব্দ করা হয়েছিল। ইডির দাবি, তার ফোনে পাওয়া একটি ভয়েস মেসেজে ‘বাঘেল’ নামের একজনকে ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
বিদেশে সম্পদ ও পাসপোর্টের অভিযোগ
ইডির দাবি, বেটিংয়ের অর্থ দিয়ে দুবাইয়ে বিলাসবহুল ভিলা, জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা হয়েছিল। এসব সম্পদের অনেকগুলো আত্মীয়স্বজন, সহযোগী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে রাখা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ ও কলকাতাভিত্তিক কিছু কাগুজে কোম্পানির মাধ্যমেও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংস্থার দাবি, সৌরভ চন্দ্রকর ২০২২ সালের ৬ মে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট নেন, যদিও তখনো তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। পরে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার দাবি করলেও ইডি সেটিকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে। রবি উপ্পল, বিকাশ ছাপারিয়া ও হরি শঙ্কর তিবরেওয়ালের কাছেও ভানুয়াতুর পাসপোর্ট ছিল বলে অভিযোগ।
২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর ইন্টারপোল সৌরভের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী ঘোষণার আবেদন করা হয়। ২০২৬ সালের ১৮ জুন ওমানে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ভারতে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারতের সাতটি রাজ্যে প্রায় ১৯০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে ইডি। এসব অভিযানে নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গয়না, ব্যাংক জমা ও শেয়ারসহ প্রায় ২ হাজার ১৪ কোটি রুপির সম্পদ জব্দ বা জব্দের আওতায় আনা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। দুবাইয়ের ২২টি সম্পত্তিও তদন্তের আওতায় রয়েছে, যার মধ্যে সৌরভ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২টির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপি।
সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তকারীরা তাকে বেটিং কার্যক্রম, দুবাইয়ের সদর দপ্তর, প্যানেল নেটওয়ার্ক, অর্থপাচারের পথ এবং বিদেশে থাকা সম্পদ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তবে এই বিশাল অর্থের শেষ গন্তব্য কোথায়, কারা এর সুবিধাভোগী এবং সরকারি পর্যায়ে কেউ সহায়তা করেছিলেন কি না— এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
সূত্র: এনডিটিভি




