ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ও ক্ষমতাচ্যুত’ আখ্যা দিলেন ডেমোক্রেট নেতা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০০ এএম
জর্জিয়ার পুনর্নির্বাচিত সিনেটর জন অসফ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য জোরালো বিজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে ‘ব্যর্থ ও ক্ষমতাচ্যুত’ বলে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নীতিহীনতা, দুর্নীতি ও চরম অদক্ষতার অভিযোগ তোলেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া এক বক্তব্যে অসফ বলেন, নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পের নেতৃত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো বিজয়ের মাধ্যমে মার্কিন জনগণ ব্যর্থ ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিহীনতা, দুর্নীতি এবং অদক্ষতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জন অসফ বলেন, মার্কিন রাজনীতি এখন ক্রমেই ধনী ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যক্তিগত এজেন্ডা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। সেখানে দৃঢ় নৈতিক মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, যা সমাজকে গভীর বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার, তখন প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত ব্যক্তিরা বিশেষ সুবিধা ভোগ করে চলেছেন—এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার সিনেট আসনে ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে ডেমোক্রেট নেতা জন অসফ আবারও সিনেটে নিজের আসন ধরে রেখেছেন।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অসফকে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনে তিনি আর্থিক তহবিলে প্রতিদ্বন্দ্বী কলিন্সের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিলেন; যেখানে অসফ তার প্রচারণায় কলিন্সের চেয়ে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বেশি খরচ করেন।
অন্যদিকে, কলিন্স বিভিন্ন বহিঃস্থ গোষ্ঠী থেকে ১৮ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা পেয়েছিলেন। ট্রাম্প জর্জিয়ার বিদায়ী গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের সমর্থিত প্রার্থী ডেরেক ডুলিকে বাদ দিয়ে মাইক কলিন্সকে বেছে নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্রেটরা যদি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়, তবে আগামী দুই বছরে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেকোনো নীতি ও এজেন্ডাকে জোরালোভাবে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা লাভ করবে।

