Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পিএম

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন?

সংগৃহীত

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের দুয়ারে পৌঁছে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। এই নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ভোট ঠিক করে দেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট জীবনের শেষ দুই বছর কেমন কাটবে সেটাও। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের সামনে অপেক্ষা করছে তদন্ত, রাজনৈতিক চাপ ও অভিশংসনের নতুন ঝুঁকি।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত শুরু হতে পারে। তদন্তের আওতায় আসতে পারে প্রশাসনের কাজ, ট্রাম্পের ব্যবসা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা। এমনকি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আবার অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা।

তবে এর প্রভাব শুধু দেশের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচনে হারলে বিদেশেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি কমে যেতে পারে। কারণ, তিনি নিজেই এই ভোটকে নিজের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা বানিয়েছেন। বারবার সমর্থকদের বলেছেন, ‘ভাবুন, আমি যেন ব্যালটে আছি।’

ট্রাম্পের এই কৌশলের পেছনে ছিল একটি হিসাব। তিনি চেয়েছিলেন, নিজের নাম সামনে রেখে রিপাবলিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে। বিশেষ করে যারা ট্রাম্প প্রার্থী না হলে ভোট দিতে আগ্রহী হতেন না, তাদের সক্রিয় করাই ছিল লক্ষ্য।

কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা দেখেছেন অন্য সুযোগ। তাদের মতে, ট্রাম্প নিজেই নির্বাচনে নিজের ভূমিকা বড় করেছেন। এতে ভোটারদের সামনে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তির পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়েছে।

নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যান্ডি কিম বলেন, ‘ট্রাম্পের চাওয়া ছিল সবাই যেন মনে করে, তিনি ব্যালটে আছেন। এখন সেটাই হচ্ছে। সবাই তাকে নিয়ে ভাবছে। তিনি সরাসরি মানুষের যে ক্ষতি করেছেন, সেটাও ভাবছে।’

তদন্ত ও অভিশংসনের চাপ

ট্রাম্প জানেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হতে পারে। তার প্রথম মেয়াদের শেষ দুই বছরও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে কেটেছিল।

তবে ট্রাম্প কখনো কখনো ডেমোক্র্যাটদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি। ওকলাহোমার এক সমাবেশে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় গেলে তাকে আবার অভিশংসন করতে পারে।

ট্রাম্পের জন্য বিরোধী দলও রাজনৈতিক শক্তির উৎস। বিরোধীদের সামনে রেখে তিনি নিজের দলের সমর্থন বাড়ান। একই সঙ্গে তহবিল সংগ্রহেও সুবিধা পান।

ডেমোক্র্যাটরা অন্তত কংগ্রেসের একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার আশা করছেন। তারা আগেই তদন্তের লক্ষ্য ঠিক করতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের নীতি, কর্মকর্তাদের কাজ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক থাকবে সেই তালিকায়।

প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি কমিটির সম্ভাব্য প্রধান ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট গার্সিয়া এরই মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন কেন্দ্রে আগাম ঘোষণা ছাড়াই গিয়েছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আইসিইর কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন।

ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, জেফরি এপস্টেইনের তদন্ত এবং করপোরেট দুর্নীতির অভিযোগও ডেমোক্র্যাটদের নজরে রয়েছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা কমিটি, বাজেট, কর্মী এবং সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে নথি ও তথ্য চাইতে পারবেন।

তবে হোয়াইট হাউসও পাল্টা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রশাসন কংগ্রেসের নথি ও সাক্ষ্য চাওয়ার বিষয়গুলো ধীর করে দিয়েছিল। কিছু তথ্যের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের বিশেষ অধিকারও দাবি করেছিল।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সামনে বড় লড়াই অপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, তার হাতে শক্তিশালী ভেটো ক্ষমতা আছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি, এমনটা হবে না। তবে হলে, অনেক প্রেসিডেন্টের সময় এমন হয়েছে। আপনার হাতে শক্তিশালী ভেটো থাকে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা করতে হয়।’

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে হাকিম জেফ্রিস স্পিকার হতে পারেন। তখন তার সামনে ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের প্রশ্ন আসতে পারে। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে দুইবারই সিনেটে তিনি দায়মুক্তি পেয়েছিলেন।

ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও লক্ষ্য করতে পারেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাদের নজরে রয়েছেন। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করেছেন।

অক্টোবরে এক সমাবেশে জেফ্রিস বলেন, ‘আমি এখানে বলতে এসেছি, সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পর আমাদের প্রথম কাজ হবে পিট হেগসেথকে শহর থেকে বের করে দেওয়া।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আবের কাওয়াস

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আবের কাওয়াস

ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, হারাল কংগ্রেসের দুই কক্ষই

ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, হারাল কংগ্রেসের দুই কক্ষই

‘আমি প্রার্থী হলে ভূমিধস জয় পেতাম’— নিজ দলের ভরাডুবি নিয়ে ট্রাম্প

‘আমি প্রার্থী হলে ভূমিধস জয় পেতাম’— নিজ দলের ভরাডুবি নিয়ে ট্রাম্প

রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ও ক্ষমতাচ্যুত’ আখ্যা দিলেন ডেমোক্রেট নেতা

ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ও ক্ষমতাচ্যুত’ আখ্যা দিলেন ডেমোক্রেট নেতা

ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটেরও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটেরও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন ট্রাম্প

আরও পড়ুন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প কি এবার অভিশংসনের মুখে পড়বেন?

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আবের কাওয়াস

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আবের কাওয়াস

ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, হারাল কংগ্রেসের দুই কক্ষই

ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, হারাল কংগ্রেসের দুই কক্ষই

‘আমি প্রার্থী হলে ভূমিধস জয় পেতাম’— নিজ দলের ভরাডুবি নিয়ে ট্রাম্প

‘আমি প্রার্থী হলে ভূমিধস জয় পেতাম’— নিজ দলের ভরাডুবি নিয়ে ট্রাম্প

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম