পালিয়ে বেড়াচ্ছে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা, মুসলিমবিদ্বেষী ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতশাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দা অ্যানেস্থেসিয়া এবং অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আসিফ দার। উচ্চশিক্ষার জন্য কাশ্মীর ছেড়ে পাঞ্জাবের জলন্ধরে থাকছেন তিনি।
একদিন সরু ও জনাকীর্ণ গলির মধ্য দিয়ে হাঁটছিলেন আসিফ। হঠাৎ বুঝতে পারলেন, সবার নজর তার দিকে। সেগুলো কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টি নয়। সবার চোখে-মুখে কেমন যেন আক্রোশের ছাপ।
আসিফ বলেন, আমার মনে হচ্ছিল প্রতিটি মানুষেরই আমার প্রতি প্রতিশোধের ভাব। কাশ্মীরের পহেলঁগাওয়ে হামলার ঘটনার পর থেকেই ভারতজুড়ে বাড়ছে এই মুসলিমবিদ্বেষ। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা সেসব উগ্রপন্থির থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা। আলজাজিরা।
নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমনই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন আসিফ। ২২ এপ্রিল ঘটনার পর তিনি ও তার বন্ধু এটিএম বুথে গেলে দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের কাছে এগিয়ে আসে। তারা তাদের জাতিগত পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে সময় আতঙ্কিত হয়ে আসিফ ও তার বন্ধু পালিয়ে যান।
পরের দিন ২৩ এপ্রিল সকালে আসিফ দুধ কিনতে তার বাড়ি থেকে বের হলেন। তিনি বলছিলেন, তিনজন লোক আমাকে দেখে ইসলামোফোবিক গালাগাল করল। তাদের মধ্যে একজন চিৎকার করে বলল, ‘সে একজন কাশ্মীরি, তাদের কারণেই সবকিছু ঘটে।’
ভারত সরকার ইতোমধ্যেই কাশ্মীরের জঙ্গল এবং পাহাড়ে হামলাকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও দেশজুড়ে কাশ্মীরিরা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা উগ্র ডানপন্থি হিন্দু সহপাঠীদের দ্বারা হেনস্তা, হয়রানি এবং হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এছাড়াও উত্তরাখন্ড, পাঞ্জাব থেকে উত্তর প্রদেশ পর্যন্ত বাড়িওয়ালারা কাশ্মীরি ভাড়াটেদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন। দোকানদাররা তাদের সঙ্গে লেনদেন করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
আসিফ বলছিলেন, ‘অন্য কেউ এই মারাত্মক আক্রমণটি ঘটিয়েছে। এখন আমাদের মূল্য দিতে হবে! আমি যে দিকেই তাকাই না কেন, অবিশ্বাসই চোখে পড়ে। আমরা অভিশপ্ত, কারণ আমাদের মুখ এবং বৈশিষ্ট্য আমাদের জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করে।’
আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলা প্রায় এক ডজন কাশ্মীরি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, তারা সব সময় রুমের মধ্যে আটকে থাকছেন। অনলাইনে অর্ডার দেওয়া বা ক্যাব বুকিংসহ বাইরের সব যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন।
জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নাসির খুইহামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘পরিস্থিতি জটিল এবং গভীর উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে হিমাচল প্রদেশের কাংরা জেলার কাঠঘরের (ইন্দোরা) আর্নি ইউনিভার্সিটি থেকে উৎকণ্ঠিত কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়েছি। তারা উগ্রপন্থি ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর হাতে হয়রানি, গালাগাল ও শারীরিক হামলা শিকার হচ্ছেন।’
এদিকে কাশ্মীরি মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করছেন নেতারা। উত্তরাখন্ড রাজ্যের রাজধানী দেরাদুনে একটি অতি ডানপন্থি হিন্দুত্ববাদী দলের নেতা মঙ্গলবার একটি ভয়াবহ সতর্কতা জারি করেছেন।
ললিত শর্মা একটি ভিডিও বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করব না... কাশ্মীরি মুসলমানরা, সকাল ১০টার মধ্যে চলে যাও, অন্যথায় তোমাদের এমন পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।’
কাশ্মীরে অবস্থানরত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ শেখ শওকত বলেন, আজকের ভারত বিদেশিদের প্রতি ঘৃণামূলক প্রচারণার ওপর জোর দিচ্ছে এবং কয়েক বছর ধরেই তা চলছে। এর (ভারতের) বেশিরভাগই মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কাশ্মীরিদের ওপর দ্বিগুণ বোঝা চাপানো হয় : একজন কাশ্মীরি হওয়া এবং একজন মুসলিম হওয়া। তারা সব সময়ই সহজ লক্ষ্যবস্তু!
