Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

গাজায় মানবিক বিপর্যয়

ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে ইইউ

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি তেল আবিবে

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৫, ০১:৩০ এএম

ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে ইইউ

ছবি : সংগৃহীত

Advertisement

গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সোমবার সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া ক্যালাস জানিয়েছেন, যদি গাজার পরিস্থিতি না বদলায়, তবে আগামী মাসেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে ইউরোপীয় দেশগুলো। ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ কথা বলেন ক্যালাস। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

ক্যালাস বলেছেন, ‘গাজা ও পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা স্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও সহজ করা, তাদের কষ্ট কমানো।’

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের সঙ্গে থাকা বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেছেন। ইতোমধ্যে স্পেন এ চুক্তি সম্পূর্ণ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে মানুয়েল আলবারেস বলেছেন, ‘ইসরাইল আমাদের বন্ধু হতে পারে; কিন্তু তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে কথা বলা দরকার। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং এজন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহ্বানও জানিয়েছেন। বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও সুইডেনও ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। তবে জার্মানি, গ্রিস ও ইতালির মতো দেশগুলো চুক্তি স্থগিত করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা অক্সফামের এক প্রতিনিধি বলেছেন, ‘ইইউ যদি দেরি করে অথবা সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে সেটাও একটা বিপর্যয়। গাজায় প্রতিদিন মানুষ খাবার খুঁজতে নিহত হচ্ছেন। অনেকেই ধ্বংসস্ত‚পে চাপা পড়েই প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রতিটি মুহূর্তের দেরি মানে আরও মৃত্যু।’

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট ভুলে যাওয়া চলবে না। দুই বিষয় আলাদা।’ সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছন, ‘গাজায় মানুষ ভয়ংকর অবস্থায় আছে। আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।’

গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। সোমবার অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নিহত হন আরও ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে অব্যাহত বোমাবর্ষণে ত্রাণপ্রার্থীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও শোক।

আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২০ জন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রের সামনে অবস্থানকারী ত্রাণপ্রার্থী। ২০২৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ। গাজার মেডিকেল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলা মূলত গাজা শহরের আশপাশে, রাফা ও নেতজারিম করিডর এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।

এসব এলাকায় বহু মানুষ খাবারের সন্ধানে জিএইচএফ পরিচালিত বিতরণ কেন্দ্রগুলোয় জড়ো হন। সোমবার সকালেই ওই কেন্দ্রগুলোয় হামলার ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলের সাহায্য ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এটি একটি ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম যুদ্ধাপরাধের শামিল।

এদিকে টানা ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। দেশ দুটির পক্ষ থেকে এ যুদ্ধবিরতির তথ্য নিশ্চিতও করা হয়েছে। আর এরপরই নতুন দাবি উঠেছে ইসরাইলে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে গাজায় আটক থাকা ইসরাইলি বন্দিদের পরিবারগুলো। পাশাপাশি ইসরাইলের বিরোধী দলগুলোও সরকারের প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছে।

Advertisement

ইসরাইল গাজা

Advertisement

আরও পড়ুন

ইরানের সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইরানের সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান হ্যারি

রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান হ্যারি

রয়টার্সের প্রতিবেদন চরম সংকটে ফ্রান্স, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে পারে?

চরম সংকটে ফ্রান্স, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে পারে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম