Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

৫ সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করেছিল ইসরাইল

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১২:২৯ পিএম

৫ সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করেছিল ইসরাইল

Advertisement

গত মাসে ইসরাইল-ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইসরাইলের পাঁচটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। 

শনিবার প্রথমবারের মতো টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে, যেখানে অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ডেটা উদ্ধৃত করা হয়েছে।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানগুলোতে আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ সামরিক সেন্সরশিপ নিয়মের কারণে ইসরাইলে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কর্তৃপক্ষের যুক্তি, এই তথ্য ইরানকে তাদের মিসাইলগুলোকে আরও সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট করতে সাহায্য করতে পারে।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে টেল নোফ বিমান ঘাঁটি, গ্লিলট গোয়েন্দা ঘাঁটি এবং জিপ্পোরিট অস্ত্র ও যানবাহন উৎপাদন কেন্দ্র। 

এই প্রতিবেদনটি টেলিগ্রাফ কর্তৃক অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত রাডার ডেটার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যারা স্যাটেলাইট মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে বোমা ক্ষয়ক্ষতি ট্র্যাক করে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময় ছয়টি রকেট দিয়ে পাঁচটি আইডিএফ ঘাঁটিতে আঘাত করা হয়। 

ইসরাইল, গত ১৩ জুন, ইরানের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচি ধ্বংস করার জন্য এই অভিযান শুরু করেছিল।

সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা ছয়টি রকেট ছাড়াও, ইসরাইলি ও আমেরিকান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে আরও ৩৬টি মিসাইল ইসরাইলের ভেতরে আঘাত হানে। এতে ২৮ জন নিহত হয়, ২৪০টি ভবনে ২,৩০৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৩,০০০-এর বেশি ইসরাইলি বাস্তুচ্যুত হয়।

১২ দিনের যুদ্ধে ইরান মোট ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করেছিল। 

এছাড়া প্রায় ১,১০০ ড্রোন পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র একটি ইসরাইলের ভেতরে আঘাত হানে।

যদিও সামগ্রিকভাবে মিসাইল প্রতিরোধের সাফল্যের হার বেশি ছিল, তবুও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে যুদ্ধের প্রথম আট দিনে প্রতিদিনই ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ইরানি মিসাইল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।

টেলিগ্রাফের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের সপ্তম দিন নাগাদ প্রায় ১৬% মিসাইল ইসরাইলি ও আমেরিকান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পেরেছিল।

মিসাইল প্রতিরোধের হার কমে যাওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়, তবে টেলিগ্রাফ উল্লেখ করেছে যে ইসরাইল সম্ভবত সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহূর্তের জন্য তাদের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংরক্ষণ করছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যুদ্ধের সময় জানিয়েছিল যে ইসরাইলের অ্যারো ইন্টারসেপ্টর মিসাইল প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের এখন কোন মিসাইল প্রতিরোধ করতে হবে আর কোনটি ছেড়ে দিতে হবে তা বেছে নিতে হবে। তবে আইডিএফ এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে তারা হুমকি মোকাবিলার জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল।

ইন্টারসেপশন হ্রাস পাওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে টেলিগ্রাফ ইরান কর্তৃক নিক্ষিপ্ত মিসাইলের ধরনকে চিহ্নিত করেছে। তাদের ধারণা, এগুলো আরও উন্নত প্রযুক্তির ছিল, ফলে এগুলো ধ্বংস করা কঠিন ছিল।

১৯ জুন অন্তত একটি নিশ্চিত ঘটনায় দেখা গিয়েছিল যে ইরান ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেড ব্যবহার করে ইসরাইলকে আক্রমণ করেছিল, যা প্রায় ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল) ব্যাসার্ধে ২০টি ছোট মারণাস্ত্র ছড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে একটি ২.৫ কেজি বিস্ফোরক ওয়ারহেডযুক্ত ছোট মারণাস্ত্র আজোর শহরের একটি বাড়িতে আঘাত হানে, যা একটি ছোট রকেটের সমতুল্য ক্ষতি করে।

সামরিক স্থাপনায় আঘাতের বিষয়ে টেলিগ্রাফের প্রশ্নের উত্তরে আইডিএফ জানায় যে তারা এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করবে না।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, টাইমস অব ইসরাইল

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

তুরস্ক-পাকিস্তান-কাতার-ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ‘বদর চুক্তি’ স্বাক্ষর

তুরস্ক-পাকিস্তান-কাতার-ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ‘বদর চুক্তি’ স্বাক্ষর

নিজ দেশে বিক্ষোভের মধ্যেই হঠাৎ সৌদি সফরে ম্যাক্রোঁ

নিজ দেশে বিক্ষোভের মধ্যেই হঠাৎ সৌদি সফরে ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের বিক্ষোভ আলোচনায় ‘বিসমিল্লাহ’ যেভাবে এলো

ফ্রান্সের বিক্ষোভ আলোচনায় ‘বিসমিল্লাহ’ যেভাবে এলো

সাত দিনের কারাবাস শেষে মুক্তি পাচ্ছেন সিজেপির দুই নেতা

সাত দিনের কারাবাস শেষে মুক্তি পাচ্ছেন সিজেপির দুই নেতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম