স্বামী চাইলে ভ্রু প্লাক করা কি জায়েজ?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৫৮ পিএম
চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য চোখের উপরের কিছু ভ্রু তুলে ফেলাকে ভ্রু প্লাক বলা হয়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌন্দর্য সচেতনতা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে সৌন্দর্য চর্চার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা ও বিধান রয়েছে। বর্তমানে অনেকেই জানতে চান, স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভ্রু প্লাক (Eyebrow Plucking) করা শরিয়তসম্মত কি না। এই বিষয়ে ইসলামি বিধান ও আলেমদের মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য ভ্রু প্লাক করা যাবে?
উত্তর: চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য চোখের উপরের কিছু ভ্রু তুলে ফেলাকে ভ্রু প্লাক বলা হয়। ইসলামে ভ্রু প্লাক করা সম্পূর্ণ হারাম। পাশাপাশি এটা আল্লাহর অভিশাপের মাধ্যম।
ভ্রু প্লাক ও নকশা আঁকার ব্যাপারে ইসলামের নিয়ম হলো- স্বামী চাইলেও কপালের পশম চাঁছা ও ভ্রু প্লাক করা জায়েজ নেই। কেননা এর দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন করা হয়, যা ইসলামে অনুমোদিত নয়। এভাবে মুখে বা হাতে সুই ফুটিয়ে নকশা আঁকা বা ট্যাটু করা বৈধ নয়।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ওই নারীদের ওপর, যারা দেহ-অঙ্গে উল্কি উত্কীর্ণ করে এবং যারা করায়, যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে ও যারা সৌন্দর্য বৃদ্ধির মানসে দাঁতের মধ্যে ফাঁক সৃষ্টি করে এবং যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৮৮৬)
রাবি বলেন, আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছে রসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর। (সুরা আল-হাশর ৭, বুখারি ৫৭৪৩ মুসলিম ২১২৫)
হাদিসের আলোকে নিষেধাজ্ঞা
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ওইসব নারীর ওপর অভিশাপ করেছেন, যারা দেহ-অঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে, যারা ভ্রু চেঁছে বা উপড়িয়ে সরু করে এবং যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, “তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১২৫)।
অন্য এক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, যারা ভ্রু সরু করানোর কাজ করে এবং যার ভ্রু সরু করানো হয়, তাদের ওপর অভিশাপ করা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৭০)। আলেমগণ এই হাদিসগুলো দিয়ে দলিল পেশ করেছেন যে, ভ্রু উপড়ানো নিষিদ্ধ।
ফিকাহবিদদের মতামত
‘আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ’-এর ১৪/৮১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, ফিকাহবিদগণ একমত যে, দুই চোখের ভ্রু উপড়ানো চেহারার লোম উপড়ানোর নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, কোনো অবস্থাতেই ভ্রু প্লাক করা জায়েজ নেই।
স্বাভাবিক পশম কি তোলা যাবে?
আলেমদের মতে, ভ্রু প্লাক করা বা সরু করা নিষিদ্ধ হলেও, নারীর মুখে বা ঠোঁটের উপরে যদি পুরুষের মতো অপ্রয়োজনীয় পশম বা দাড়ি-গোঁফের মতো পশম ওঠে, তবে তা তুলে ফেলা জায়েজ রয়েছে। এটি সৌন্দর্য নষ্ট করে বিধায় পরিষ্কার করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ভ্রুর ক্ষেত্রে এই সুযোগ নেই।
