ওয়াজ-মাহফিলকে কি বেহেশতের বাগান’ বলা যাবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শীত ইবাদতের বসন্তকাল। এ সময় দেশজুড়ে চলে জিকিরের মজলিস— ওয়াজ, মাহফিল, ইসলামি সমাবেশ বা হালকায়ে জিকির। এগুলো মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ সমাবেশ বা মুহূর্ত। এগুলো নামনির্ভর কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং নবী (সা.) এ সমাবেশকে ঘোষণা করেছেন— ‘বেহেশতের বাগান।’
হ্যাঁ, ওয়াজ-মাহফিল কিংবা ইসলামি সমাবেশও জিকিরের মজলিস এবং এটিকে বেহেশতের বাগান বলা যাবে। কারণ মানুষ এসব ইসলামি ওয়াজ, মাহফিল ও দাওয়াতি সমাবেশে আল্লাহর স্মরণ হয়, কুরআন ও হাদিস শোনে, পরকাল চিন্তা করে, তওবা করে, ইমানের আলোতে হৃদয়কে সঞ্জীবিত করে। এ ধরনের মজলিসকে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং বেহেশতের বাগান বলেছেন। যে মজলিসে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, সেখানে রহমত নাজিল হয়, ফেরেশতারা সে মজলিসকে ঘিরে ধরে, আর আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের নাম নিজের সম্মানিত সান্নিধ্যে উচ্চ মজলিসে উচ্চারিত করেন।
১. জিকিরের মজলিস— বেহেশতের বাগান
নবীজি (সা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী দুনিয়ার ওয়াজ-মাহফিল-ইসলামি সমাবেশ এসবই জিকিরের মজলিস। নবীজি (সা.)-এ মজলিসকে বেহেশতের বাগান বলে ঘোষণা দিয়েছেন এভাবে-
إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قَالَ وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ قَالَ " حِلَقُ الذِّكْرِ
‘তোমরা যখন বেহেশতের বাগানসমূহের পাশ দিয়ে যাবে, সেখানে বসবে।’ সহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বেহেশতের বাগান কী?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর জিকিরের মজলিস।’ (তিরমিজি ৩৫১০)
২. জিকিরের সমাবেশে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ
‘তুমি তাদের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করো, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে স্মরণ করে।’ (সুরা কাহফ: আয়াত ২৮)
৩. আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি
আল্লাহর স্মরণে মজলিসে জিকির-আজকার করা হয়। আর জিকির আজকারে বান্দার হৃদয় প্রশান্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
‘জেনে রাখো! আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে। (সুরা আর-রাদ: আয়াত ২৮)
৪. ওয়াজের শ্রোতাদের আল্লাহ স্মরণ করেন
যারা একনিষ্ঠ নিয়তে দুনিয়ার ওয়াজ-মাহফিলে বসে, আল্লাহ আসমানে এর চেয়ে মূল্যবান মজলিসে তাদের কথা স্মরণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَا مِنْ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلاَّ حَفَّتْ بِهِمُ الْمَلاَئِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
‘যখনই কোনো এক স্থানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ তা’আলার যিকরে মশগুল হয়, তখনই ফেরেশতাগণ তাদের আবূত করে রাখে, তাদের আল্লাহ তা’আলার রহমত ও করুণা ছেয়ে ফেলে এবং তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়। আর আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং তার সমীপে উপস্থিতদের কাছে তাদের আলোচনা করেন।’ (তিরমিজি ৩৩৭৮, ইবনু মাজাহ ৩৭৯১)
সুতরাং ইসলামি মাহফিল, ওয়াজ, দাওয়াতি আলোচনা— এসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং আল্লাহর বিশেষ রহমতের কেন্দ্র। যেসব মজলিসে কুরআন পাঠ হয়, আল্লাহর স্মরণ হয়, নবী (সা.)-এর সুন্নাহর বয়ান হয়— সেগুলো সত্যিই দুনিয়ায় বেহেশতের বাগান। এই মজলিসে অংশ নেওয়া হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, ইমানকে শক্তিশালী করে, রহমত ডেকে আনে এবং পরকালীন মুক্তির পথ সহজ করে দেয়। আমরা যেন নিয়মিত এ ধরনের নেক সমাবেশে অংশ নিই এবং এর মাধ্যমে দুনিয়া থেকেই বেহেশতের সুবাস অনুভব করতে পারি। আমিন।

